ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর রেলওয়ে জংশন

অন্য স্টেশনের টিকিট বাড়তি দামে কিনছেন যাত্রীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

রূপসী বাংলা ট্রেনের জন্য স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড় -কপোতাক্ষ

প্রকৌশলী এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবির যশোর থেকে রূপসী বাংলা ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য অনলাইনে ট্রেনের টিকিট করতে গিয়ে দেখেন টিকিট শেষ। উপায়ান্তর না পেয়ে তিনি একশ’ টাকার বাড়তি ভাড়ায় বেনাপোল থেকে টিকিট কাটেন। এমন অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ যাত্রীর তো হচ্ছেই, যাত্রীদের চাহিদার কারণে যশোর স্টেশনের কাউন্টার থেকেও বিভিন্ন ট্রেনের দূরবর্তী স্টেশন থেকেও টিকিট কেটে দিচ্ছেন রেলকর্মীরাই।

পদ্মা সেতু দিয়ে রূপসী বাংলা ট্রেনে মাত্র পৌনে তিন ঘণ্টায় যশোর-ঢাকা ভ্রমণের এমন মাত্র একটি সুযোগে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ট্রেন যাত্রায়। কিন্তু শোভন, এসি ও কেবিন মিলিয়ে বরাদ্দ মাত্র ৩০৪টি টিকিটে সংকুলান হচ্ছে না যশোরের যাত্রীদের চাহিদা। আবার বেনাপোল এক্সপ্রেসে বাড়তি ঘোরা পথ হলেও, সেখানেও মারাত্মক চাহিদা। যশোর স্টেশনের রেকর্ড বলছে, বাড়তি ঘোরা পথ হলেও এ ট্রেনের টিকিটেও রয়েছে মাত্রাছাড়া চাহিদা। এজন্য বেনাপোল এক্সপ্রেসের স্ট্যান্ডিং টিকিটসহ পোড়াদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে যশোর স্টেশন থেকে।

যশোর রেলওয়ে জংশন -কপোতাক্ষ

রেলের পরিসংখ্যানও বলছে, যাত্রী ও আয় বৃদ্ধির কথা। গত এক বছরে যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে ট্রেনের যাত্রী এবং রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। আড়াই লক্ষাধিক অতিরিক্ত যাত্রীর মাধ্যমে এই টিকিট বিক্রির রাজস্ব আয়ের পরিমাণ পৌনে ছয় কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই স্টেশন থেকে ভ্রমণ করেছে ১১ লক্ষাধিক যাত্রী, যাদের কাছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সূত্র জানায়, বিগত ২০২৫-২৬ অর্ধবছরে যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে মোট ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮৩ হাজার ২৭৫ টাকা। আর এর পূর্ববর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্ধবছরে এই জংশন থেকে মোট ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩০ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এই যাত্রীদের টিকিটের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৪২৯ টাকা। অর্থাৎ বিগত অর্থবছরে যশোর জংশন থেকে যাত্রী বেড়েছে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার। আর রাজস্ব আয় বেড়েছে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যাত্রী বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ আর রাজস্ব আয় বৃদ্ধির হার ৩১ শতাংশ।

যশোর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্লাটফর্ম -কপোতাক্ষ

যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে ক্রমাগত যাত্রী বৃদ্ধিতে এই স্টেশনে টিকিটের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষও বিশেষভাবে ভাবছে। যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, গত এক বছরে যশোর জংশনে যাত্রী ও রাজস্ব আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। যাত্রীদের চাহিদার কারণে অন্য স্টেশনের টিকিট আমরা এখান থেকে কেটে দিচ্ছি। আর এই স্টেশনের টিকিটের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারেও উর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চলছে। অন্য যেসব স্টেশনে চাহিদা কম, সেসব স্টেশনের টিকিট যশোরে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, রেলের নিয়মানুযায়ী যেকোনো ট্রেনের শুরুর স্টেশনের টিকিটের সংখ্যা বেশি থাকে। সেই হিসেবে রূপসী বাংলা ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের টিকিট চাহিদার তুলনায় বেনাপোলে বেশি বরাদ্দ রয়েছে। সেই টিকিট যশোরের যাত্রীরা বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সংগ্রহ করছেন। তাই বেনাপোলের টিকিট অর্ধেক করে যশোর স্টেশনে বরাদ্দ দিলে সরকারের রাজস্ব আহরণ ঠিক থাকার পাশাপাশি যশোরের সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন। এই রুটে অবিলম্বে প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর চলমান দাবির পাশাপাশি বর্তমানের দুটি ট্রেনে বেনাপোলের অর্ধেক টিকিট যশোর স্টেশনের অনুকূলে বরাদ্দের দাবি আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোর রেলওয়ে জংশন

অন্য স্টেশনের টিকিট বাড়তি দামে কিনছেন যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

প্রকৌশলী এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবির যশোর থেকে রূপসী বাংলা ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য অনলাইনে ট্রেনের টিকিট করতে গিয়ে দেখেন টিকিট শেষ। উপায়ান্তর না পেয়ে তিনি একশ’ টাকার বাড়তি ভাড়ায় বেনাপোল থেকে টিকিট কাটেন। এমন অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন অসংখ্য সাধারণ যাত্রীর তো হচ্ছেই, যাত্রীদের চাহিদার কারণে যশোর স্টেশনের কাউন্টার থেকেও বিভিন্ন ট্রেনের দূরবর্তী স্টেশন থেকেও টিকিট কেটে দিচ্ছেন রেলকর্মীরাই।

পদ্মা সেতু দিয়ে রূপসী বাংলা ট্রেনে মাত্র পৌনে তিন ঘণ্টায় যশোর-ঢাকা ভ্রমণের এমন মাত্র একটি সুযোগে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ট্রেন যাত্রায়। কিন্তু শোভন, এসি ও কেবিন মিলিয়ে বরাদ্দ মাত্র ৩০৪টি টিকিটে সংকুলান হচ্ছে না যশোরের যাত্রীদের চাহিদা। আবার বেনাপোল এক্সপ্রেসে বাড়তি ঘোরা পথ হলেও, সেখানেও মারাত্মক চাহিদা। যশোর স্টেশনের রেকর্ড বলছে, বাড়তি ঘোরা পথ হলেও এ ট্রেনের টিকিটেও রয়েছে মাত্রাছাড়া চাহিদা। এজন্য বেনাপোল এক্সপ্রেসের স্ট্যান্ডিং টিকিটসহ পোড়াদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা স্টেশনের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে যশোর স্টেশন থেকে।

যশোর রেলওয়ে জংশন -কপোতাক্ষ

রেলের পরিসংখ্যানও বলছে, যাত্রী ও আয় বৃদ্ধির কথা। গত এক বছরে যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে ট্রেনের যাত্রী এবং রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। আড়াই লক্ষাধিক অতিরিক্ত যাত্রীর মাধ্যমে এই টিকিট বিক্রির রাজস্ব আয়ের পরিমাণ পৌনে ছয় কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই স্টেশন থেকে ভ্রমণ করেছে ১১ লক্ষাধিক যাত্রী, যাদের কাছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সূত্র জানায়, বিগত ২০২৫-২৬ অর্ধবছরে যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে মোট ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮৩ হাজার ২৭৫ টাকা। আর এর পূর্ববর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্ধবছরে এই জংশন থেকে মোট ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩০ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এই যাত্রীদের টিকিটের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৪২৯ টাকা। অর্থাৎ বিগত অর্থবছরে যশোর জংশন থেকে যাত্রী বেড়েছে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার। আর রাজস্ব আয় বেড়েছে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যাত্রী বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ আর রাজস্ব আয় বৃদ্ধির হার ৩১ শতাংশ।

যশোর রেলওয়ে জংশনের দুই নম্বর প্লাটফর্ম -কপোতাক্ষ

যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে ক্রমাগত যাত্রী বৃদ্ধিতে এই স্টেশনে টিকিটের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষও বিশেষভাবে ভাবছে। যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, গত এক বছরে যশোর জংশনে যাত্রী ও রাজস্ব আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। যাত্রীদের চাহিদার কারণে অন্য স্টেশনের টিকিট আমরা এখান থেকে কেটে দিচ্ছি। আর এই স্টেশনের টিকিটের পরিমাণ বৃদ্ধির ব্যাপারেও উর্ধ্বতন মহলে আলোচনা চলছে। অন্য যেসব স্টেশনে চাহিদা কম, সেসব স্টেশনের টিকিট যশোরে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, রেলের নিয়মানুযায়ী যেকোনো ট্রেনের শুরুর স্টেশনের টিকিটের সংখ্যা বেশি থাকে। সেই হিসেবে রূপসী বাংলা ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের টিকিট চাহিদার তুলনায় বেনাপোলে বেশি বরাদ্দ রয়েছে। সেই টিকিট যশোরের যাত্রীরা বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সংগ্রহ করছেন। তাই বেনাপোলের টিকিট অর্ধেক করে যশোর স্টেশনে বরাদ্দ দিলে সরকারের রাজস্ব আহরণ ঠিক থাকার পাশাপাশি যশোরের সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবেন। এই রুটে অবিলম্বে প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর চলমান দাবির পাশাপাশি বর্তমানের দুটি ট্রেনে বেনাপোলের অর্ধেক টিকিট যশোর স্টেশনের অনুকূলে বরাদ্দের দাবি আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো।