যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
সরকারের কৃষকবান্ধব সাহসী সিদ্ধান্তে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করেন -কপোতাক্ষ
সরকারের কিছু কৃষকবান্ধব সাহসী সিন্ধান্তে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আজ (শুক্রবার) বেলা ১২টার দিকে যশোর খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের উদ্বোধনকালে এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ চ্যাঞ্জেলের মধ্যে পড়েছিল। বাংলাদেশও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। তারেক রহমানের তাৎক্ষণিক সাহসী সিদ্ধান্তে জনগণের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতি মেকাবেলা সফলভাবে করতে পেরেছি। সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল প্রয়োজনে গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃষকের সেচের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের। আমদের সিদ্ধান্ত ছিল প্রয়োজনে শহরের মানুষের বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে কিন্তু কৃষকের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে না। আমরা নানা সংকটেও কৃষকের বিদ্যুৎ জ্বালানি কৃষকের ধানক্ষেতে পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছি। সরকারের কৃষকবান্ধব এই সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে সারাদেশে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই বোরো ধান দেশের মূল ফসল। এটি ভালো হলে দেশের অর্থনীতি ভালো থাকে।
আজকে কৃষি ক্ষেত্রে যে অগ্রযাত্রা তার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, হাতের কালি মোছার আগেই সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সকল প্রকার কৃষি উপকরণ কিনতে পারবে। প্রয়োজন কৃষক স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ নিতে পারবে। সরকারি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। আজকে কৃষি ক্ষেত্রে যে অগ্রযাত্রা তার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে উন্নতমানের সার, বীজ, যন্ত্রপাতিসহ সকল প্রকার কৃষি উপকরণ এনে দেশের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। দেশের কৃষি খাতের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতার সকল কর্মসূচি নতুনভাবে শুরু করেছেন।
এবার সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দাম সচরাচর কোনো সরকারই দেয়নি দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দাম প্রতিকেজি ৩৬ টাকা; এটা ভালো দাম। সচরাচর সরকার এই দাম দেয় না। এই দামের ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাবে; অপরদিকে এই খাদ্য অধিদপ্তরও তার প্রয়োজনীয় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে। যার প্রভাবে বাজার স্থিতিশীল থাকা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী হুশিয়ারি দেন ধান সংগ্রহকালে বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তা কৃষকদের ওজনে ঠকান। এই ধরনের কার্যক্রমে কোনো অভিযোগ পেলে সেইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক প্রমুখ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন। সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এদিকে এদিন দুপুরে যশোর পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ পৌরসভার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









