ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদায়ী বছরে যশোরে ৬০ হত্যাকাণ্ড

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

প্রতীকী ছবি

রাজনৈতিক বিরোধ, স্বজনের হাতে স্বজন, পরকীয়ার জেরে বিদায়ী ২০২৫ সালে যশোর জেলায় ৬০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অধিকাংশ হত্যার মোটিভ চিহ্নিত করে জড়িতদের অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ২২ মে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নওয়াপাড়া পৌর কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। মশিয়াহাটী গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। আর ঐ বিরোধের জেরে তরিকুলকে ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের মিন্টু বিশ্বাসের বাড়ি ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ঘেরের টাকার ডিড নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৬-৭ জন তরিকুলকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। তারা স্থানীয় বাজারের কয়েকটি দোকানে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ হত্যার পর ঐ এলাকায় মাতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ঘটনাটির মূল কারণ মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ হলেও তদন্তে চরমপন্থীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

এরপর ৯ জুন যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মইন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে চৌগাছার পুড়াহুদা গ্রামে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড়ভাই রবিউল ইসলাম নিহত হন।

১৪ জুন, অভয়নগরের নাউলি গ্রামে কুয়েত প্রবাসী হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই মুন্না জানান, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। আর একই রাতে শার্শার দুর্গাপুর বাজারে রাজনৈতিক বিরোধে নিহত হন বিএনপি কর্মী লিটন হোসেন। আর এ ঘটনার চারদিন আগে ঈদের দিন শার্শার ডুবপাড়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে নিহত হন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। ঐদিনই ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ আরেকটি ঘটনা ঘটে। বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয় ১০ বছরের শিশু সোহানা। পরে তার ধর্ষিত মরদেহ পুকুরে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ নয়ন ওরফে নাজমুস সাকিব নামের একজনকে গ্রেফতার করে।

যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন মোট ৬০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৪টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩টি, মার্চ মাসে ৬টি, এপ্রিল মাসে ৬টি, মে মাসে ৭টি, জুন মাসে ৮টি, জুলাই মাসে ৬টি, আগস্ট মাসে ৬টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২টি, অক্টোবর মাসে ৭টি, নভেম্বর মাসে ৩টি ও ডিসেম্বর মাসে ২টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আবুল বাশার বলেন, ২০২৫ সালে যশোর জেলাতে ৬০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনার মোটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জড়িতদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদায়ী বছরে যশোরে ৬০ হত্যাকাণ্ড

আপডেট সময় : ০২:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক বিরোধ, স্বজনের হাতে স্বজন, পরকীয়ার জেরে বিদায়ী ২০২৫ সালে যশোর জেলায় ৬০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অধিকাংশ হত্যার মোটিভ চিহ্নিত করে জড়িতদের অনেকেই গ্রেফতারও হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ২২ মে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নওয়াপাড়া পৌর কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। মশিয়াহাটী গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। আর ঐ বিরোধের জেরে তরিকুলকে ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের মিন্টু বিশ্বাসের বাড়ি ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ঘেরের টাকার ডিড নিয়ে বিরোধের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৬-৭ জন তরিকুলকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। তারা স্থানীয় বাজারের কয়েকটি দোকানে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ হত্যার পর ঐ এলাকায় মাতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ঘটনাটির মূল কারণ মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ হলেও তদন্তে চরমপন্থীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

এরপর ৯ জুন যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মইন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে চৌগাছার পুড়াহুদা গ্রামে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড়ভাই রবিউল ইসলাম নিহত হন।

১৪ জুন, অভয়নগরের নাউলি গ্রামে কুয়েত প্রবাসী হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতের ভাই মুন্না জানান, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। আর একই রাতে শার্শার দুর্গাপুর বাজারে রাজনৈতিক বিরোধে নিহত হন বিএনপি কর্মী লিটন হোসেন। আর এ ঘটনার চারদিন আগে ঈদের দিন শার্শার ডুবপাড়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে নিহত হন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। ঐদিনই ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ আরেকটি ঘটনা ঘটে। বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয় ১০ বছরের শিশু সোহানা। পরে তার ধর্ষিত মরদেহ পুকুরে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ নয়ন ওরফে নাজমুস সাকিব নামের একজনকে গ্রেফতার করে।

যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন মোট ৬০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৪টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩টি, মার্চ মাসে ৬টি, এপ্রিল মাসে ৬টি, মে মাসে ৭টি, জুন মাসে ৮টি, জুলাই মাসে ৬টি, আগস্ট মাসে ৬টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২টি, অক্টোবর মাসে ৭টি, নভেম্বর মাসে ৩টি ও ডিসেম্বর মাসে ২টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আবুল বাশার বলেন, ২০২৫ সালে যশোর জেলাতে ৬০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনার মোটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জড়িতদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।