যশোরের ৩৭ দপ্তরের ৭৫ অভিযোগের শুনানি
ঘুষ খাননি, পাকা কলা খেয়েছেন!
- আপডেট সময় : ১২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ৩১১ বার পড়া হয়েছে
যশোর জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনের দাবি তিনি ঘুষ খাননি। তবে দাওয়াত খেয়েছেন, পাকা কলাও খেয়েছেন। দোকান বরাদ্দের নামে এমন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপরাধে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
আজ (রবিবার) দুপুরে যশোরে গণশুনানিকালে তিনি এই আদেশ দেন। যশোরের ৩৭টি দপ্তরের ৭৫টি অভিযোগের শুনানি করেন তিনি।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শুনানি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের এই শুনানিকালে কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানি উদ্বোধনকালে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘খবরে দেখলাম দুদক চেয়ারম্যানের চেয়ারের দাম দুশ’ কোটি টাকা। আগে শুনতাম চেয়ারের দাম পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তাহলে ৪৮শ’ কোটি টাকা তো কমেছে!’
এরপর দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গণশুনানি মানে কর্মকর্তাদের সাথে জনগণকে মুখোমুখি করে দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের জনগণের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে যাতে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এই জেলা থেকে যখন বদলি হয়ে যাবেন, তখন যদি আপনার জন্য মানুষের চোখের কোনে পানি জমা হয়, তাহলে বুঝবেন কাজ করেছেন। যদি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন তাহলে অন্তত বিবেকের কাছে কিন্তু জবাবদিহিতা করতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তার কাছেও জবাবদিহিতা করতে হবে। গণশুনানি থেকে সেবাদাতা ও সেবাগ্রহিতা যদি হাসিমুখে যেতে পারি তাহলেই এই উদ্যোগ সফল হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দুদক নানা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এজন্য কোনোভাবেই অনিয়ম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
বক্তব্য দেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন ও যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান।
স্বাগত বক্তব্য দেন দুদক খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় গণশুনানি শুরু হয়।
শুনানিতে ৩৭টি দপ্তরের ৭৫টি অভিযোগের শুনানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আইনগত নির্দেশনা দেন।
এর মধ্যে, যশোর জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আলমগীর হোসেনকে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
বিআরটিএ অফিস এলাকায় দালালের আধিপত্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান বিআরটিএ যশোরের সহকারী পরিচালক এএসএম ওয়াজেদ হোসেনকে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে দালাল নির্মূলের নির্দেশ দেন এবং আলোচিত দালাল সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও খাবারের মানোন্নয়নের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালেও দালাল উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেন। হাসপাতালের কর্মচারী পবিত্র বিশ্বাস এক শিশুর কানের চিকিৎসা করতে গিয়ে তার কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্মচারীর বিরুদ্ধে গৃহিত ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় চেয়ারম্যান উষ্মা প্রকাশ করেন।
ভৈরব নদ ও মুক্তেশ্বরী নদী দখল দূষণের ব্যাপারে অভিযোগ উত্থাপতি হলে শুনানি থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, পৌরসভা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যৌথ কমিটি করে করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর ফারুকের নিয়োগসহ বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় চেয়ারম্যান দুদক যশোর কার্যালয়কে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
এছাড়াও শিক্ষা অফিস, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অভিযোগ শুনানি করে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করেন।










