ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছার সেই আলোচিত গণধর্ষণের মামলা

বহিস্কৃত দুই ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের নামে চার্জশিট

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫ ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

ঝিকরগাছায় ধর্ষণের অভিযোগে আটক জাবেদ হোসেন, আল মামুন হোসেন বাপ্পী, আমিনুর রহমান ও ইয়াসিন আরাফাত - কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

যশোরের ঝিকরগাছায় এক নারীকে গণধর্ষণের মামলায় বহিস্কৃত দুই ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের নামে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু সাঈদ।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন : ঝিকরগাছার পটুয়াপাড়ার শরিফুল ইসলামের ছেলে ও গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন হোসেন বাপ্পী, একই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিস্কৃত দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, জাকির হোসেনের ছেলে জাবেদ হোসেন ও উজ্জল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান। চার্জশিটভুক্ত চার আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ‘ঝিকরগাছার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।’

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী নারী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বেনাপোলের আত্মীয় বাড়ি থেকে মনিরামপুর নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে গদখালি বাজারে নামেন ঐ ভুক্তভোগী নারী। সেখানে একটি ফুলের দোকানে ইয়াসিন আরাফাত নামে যুবকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। দোকানে কথাবার্তার একপর্যায়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আসামি জবেদ হোসেনের মোটরসাইকেলে তুলে দেন আরাফাত। অপর তিন আসামি একটি মোটরসাইকেলে তাদের পিছুপিছু যান।

আসামি জবেদ তার গ্রামের লিচুবাগানে নিয়ে যান। বিকেলে লিচুবাগানে আসামিরা তাকে গণধর্ষণ করেন। ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণকারীরা তার শিশু বাচ্চাসহ ফেলে রেখে চলে যান।

কিছুটা সুস্থ হয়ে ওই নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সন্ধ্যায় ওই চারজনকে আটক করেন।

প্রসঙ্গত, দেশে আলোচিত মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণের কয়েকদিনের মাথায় ঝিকরগাছায় আবারও নারী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কার করে সংগঠনটি।

জড়িতদের বিচারের দাবিতে একাধারে কয়েকদিন যশোর ও ঝিকরগাছায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া, ভুক্তভোগী নারীর চিকিৎসা ও বিচার নিশ্চিতে তার বাড়িতে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিকরগাছার সেই আলোচিত গণধর্ষণের মামলা

বহিস্কৃত দুই ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের নামে চার্জশিট

আপডেট সময় : ০৩:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

যশোরের ঝিকরগাছায় এক নারীকে গণধর্ষণের মামলায় বহিস্কৃত দুই ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের নামে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু সাঈদ।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন : ঝিকরগাছার পটুয়াপাড়ার শরিফুল ইসলামের ছেলে ও গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন হোসেন বাপ্পী, একই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের বহিস্কৃত দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, জাকির হোসেনের ছেলে জাবেদ হোসেন ও উজ্জল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান। চার্জশিটভুক্ত চার আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ‘ঝিকরগাছার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।’

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী নারী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বেনাপোলের আত্মীয় বাড়ি থেকে মনিরামপুর নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে গদখালি বাজারে নামেন ঐ ভুক্তভোগী নারী। সেখানে একটি ফুলের দোকানে ইয়াসিন আরাফাত নামে যুবকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। দোকানে কথাবার্তার একপর্যায়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আসামি জবেদ হোসেনের মোটরসাইকেলে তুলে দেন আরাফাত। অপর তিন আসামি একটি মোটরসাইকেলে তাদের পিছুপিছু যান।

আসামি জবেদ তার গ্রামের লিচুবাগানে নিয়ে যান। বিকেলে লিচুবাগানে আসামিরা তাকে গণধর্ষণ করেন। ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণকারীরা তার শিশু বাচ্চাসহ ফেলে রেখে চলে যান।

কিছুটা সুস্থ হয়ে ওই নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে ঝিকরগাছা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সন্ধ্যায় ওই চারজনকে আটক করেন।

প্রসঙ্গত, দেশে আলোচিত মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণের কয়েকদিনের মাথায় ঝিকরগাছায় আবারও নারী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কার করে সংগঠনটি।

জড়িতদের বিচারের দাবিতে একাধারে কয়েকদিন যশোর ও ঝিকরগাছায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া, ভুক্তভোগী নারীর চিকিৎসা ও বিচার নিশ্চিতে তার বাড়িতে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।