বেয়াইন হাসি বেগম নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন
‘ধর্ষণচেষ্টা করায়’ বেয়াইয়ের চোখ তুলে নেয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে
যশোরে ‘ধর্ষণচেষ্টা করায়’ বেয়াইয়ের চোখ তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ (শনিবার) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর জেস গার্ডেন পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত বেয়াই সিরাজুল ইসলাম কুটিকে (৪৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তিনি শহরের বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে ও বেয়াইন হাসির মেজে মেয়ের শ্বশুর। তবে উভয়ের পরিবার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
এ ঘটনায় বেয়াইন হাসি বেগম নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে বেয়াই সিরাজুল বেয়াইন হাসি বেগমের বাড়িতে যান। এরপর হঠাৎ ঐ বাড়ি থেকে মারামারি ও কান্নাকাটির শব্দ পাওয়া যায়। প্রতিবেশিরা ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখেন, একে অন্যকে লোহার পাইপ দিয়ে মারপিট করছে। এর মধ্যে সিরাজুলের এক চোখ ক্ষতবিক্ষত দেখতে পান। এছাড়া হাসির শরীরের বিভিন্ন স্থানেও জখমের দাগ দেখা যায়। স্থানীয়রা তাদের নিবৃত করেন এবং গুরুতর অবস্থায় সিরাজুলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। এ সময় হাসি বেগম নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এদিকে হাসপাতালে সিরাজুল ও তার স্বজনেরা জানান, পূর্বশত্রতার জের ধরে হাসি ও তার মেয়ে মনিকা এবং হাসির আরেক জামাতা মনিরুল মিলে সিরাজুলকে শাবল দিয়ে মারপিট করেন। এছাড়া চোখেও গুরুতর জখম করেন।
অন্যদিকে হাসি বেগম অভিযোগ করেন, সিরাজুল দীর্ঘদিন তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ‘তাকে ধর্ষণচেষ্টা’ করেন। এ সময় তিনি আত্মরক্ষায় তার হাত সিরাজুলের চোখে লাগে। এছাড়া তাকেও মারপিট করা হয়েছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. হিমাদ্রী শেখর সরকার জানিয়েছেন, আহতের দুটি চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা এখানে সেবা দেওয়া সম্ভব না। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত বলেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, সিরাজুল চোখে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তাকে খুলনায় পাঠানো হয়। এছাড়া হাসিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















