যশোরে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান
পাল্লার মাপে কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য বুঝে দেব
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন -কপোতাক্ষ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের প্রতীক দাড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনো কম বেশি করবো না, যার যা প্রাপ্য তা বুঝে দেব।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, একদিকে ফ্যামেলি কার্ড, অন্যদিকে মহিলাদের গায়ে হাত, দুটো একসাথে চলতে পারে না। এটা এই বার্তা, তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, মামলা বাণিজ্য বিচার ব্যবস্থাকে হত্যার শামিল। জুলাই আন্দোলনের পর কেউ কেউ হাজার হাজার আসামি দিয়ে মামলা করেছে, হয়রানি করছে। আমরা বলেছি, প্রতিশোধ নেব না। আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু কোনো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা যাবে না। এজন্য আমরা মাত্র ৮টি মামলা করেছি। মামলার আসামি সর্বোচ্চ ৯৮ জন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা থাকলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে। যারা রাষ্ট্রের সংস্কার, সিস্টেমের পরিবর্তন ও মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন চান, তারাই পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, যারা পরিবর্তন চায় না, যারা আবারও স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব গড়তে চায়, তারাই ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেবে। তাদের জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা বা দায়বদ্ধতা নেই।
তিনি আরও বলেন, পতিত সরকারের সময়কার মতো একটি অশুভ চক্র আবারও জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ এখন সচেতন। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামবে, তবে কোনো অশুভ শক্তির হাতে রাষ্ট্র তুলে দেবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানুষ অপেক্ষা করবে। সেদিন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাবে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আনে, তবে রাষ্ট্রকে আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে। সেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
পোশাকসংক্রান্ত অপপ্রচারের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কেউ নিজের পছন্দের পোশাক পরতে পারবে না, এমন কথা সঠিক নয়। শালীনতার সঙ্গে যে কেউ যেকোনো পোশাক পরতে পারবেন। কাউকে জোর করে পোশাক পরানো জামায়াতে ইসলামীর নীতি নয়।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে দেশসেবার অংশ হিসেবে যশোরের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ সময় তিনি যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, যশোর ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা হওয়া সত্ত্বেও আজও এখানে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কৃষিভিত্তিক জেলা হলেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।
সমাবেশ শেষে ড. শফিকুর রহমান যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমীর এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চল সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সেক্রেটারি, মাওলনা মাসুম বিল্লাহ, এনসিপি কেন্দ্রীয় সদস্য, খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, এনসিপি জেলা প্রধান সমন্বয়কারী, নুরুজ্জামান, খেলাফত মজলিস জেলা সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা আশেক এলাহি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলা মুখ্য সমন্বয়ক আমানুল্লাহ আমান, শিবির যশোর শহর শাখার সভাপতি এ এইচ এম শামিম, শিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি আশিকুজ্জামান, শিবির যশোর পশ্চিম শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
এর আগে যশোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা ঘিরে বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। জেলার ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দান পূর্ণ হয়ে ওঠে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতিতে। ভোররাত থেকেই যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা দলে দলে শহরে জড়ো হতে শুরু করেন।
সকাল সাড়ে আটটার পর থেকেই ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জনসভায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। পুরো এলাকা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।








