ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঘুষের টাকাসহ আটক যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে

দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল আলম -কপোতাক্ষ

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ (বৃহস্পতিবার) যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত এক লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ ফাঁদ পেতে বুধবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ফাঁদ পাতা হয়।

সূত্র জানায়, গত তিনমাস ধরে অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধর্ণা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থ ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে নুরুন্নবী দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন। দুদক তার অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে।
যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গতবছর ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আরও এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া তার এক বন্ধুর পেনশনের জন্যও ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। টাকা জোগাড় করতে না পেরে শিক্ষা কর্মকর্তার হাত-পা’ও ধরেছেন বলে তিনি জানান। একপর্যায়ে তিনি দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর বুধবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই ঘুস প্রদানের পর দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো. নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে বুধবার বিকেলে দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এরপর দুদক কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রাতে তাকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হল আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে, তার আটকের প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর দুদক কার্যালয়ের সমানে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘুষের টাকাসহ আটক যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ (বৃহস্পতিবার) যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত এক লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয় থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ ফাঁদ পেতে বুধবার বিকেলে দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ফাঁদ পাতা হয়।

সূত্র জানায়, গত তিনমাস ধরে অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কাছে ধর্ণা দিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা নানা অজুহাতে তাকে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থ ছাড় করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে নুরুন্নবী দুদক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হন। দুদক তার অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ‘ট্র্যাপ অভিযানের’ প্রস্তুতি নেয়। দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদনের পর বুধবার অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আশরাফুল আলমের হাতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে।
যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গতবছর ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর আরও এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া তার এক বন্ধুর পেনশনের জন্যও ঘুষ দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। টাকা জোগাড় করতে না পেরে শিক্ষা কর্মকর্তার হাত-পা’ও ধরেছেন বলে তিনি জানান। একপর্যায়ে তিনি দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর বুধবার বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই ঘুস প্রদানের পর দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো. নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে বুধবার বিকেলে দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এরপর দুদক কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রাতে তাকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হল আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে, তার আটকের প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর দুদক কার্যালয়ের সমানে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা।