ঘুষের সোয়া লাখ টাকাসহ দুদকের জালে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ০২:১৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
মৃত স্ত্রীর পেনশনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছিলেন স্কুল শিক্ষক স্বামী। পেনশনের আবেদন করে মাসের পর মাস শিক্ষা অফিসে ধর্না দিয়েও ফাইল ছাড়েননি কর্মকর্তা। উল্টো ঘুষের দাবিতে দফায় দফায় হয়রানি করা হতো। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তার অফিসে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় সেই কর্মকর্তাকে।
আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নাম মো. আশরাফুল আলম।
দুদক বলছে, টাকাসহ স্বাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণসহ সকল আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে মামলা রুজুপূর্বক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে জড়িত অন্যান্য আসামীদের আইনামলে আনা হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন শিরিনা আক্তার। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর শিক্ষিকার অবসরকালীন আজীবন পেনশন পান তার স্বামী। সেই পেনশনের জন্য গতবছরের ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন স্বামী স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ নুরুনবী।
আবেদনের পর থেকেই নুরুনবীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম দফায় দফায় হয়রানি করতে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে জেলা কর্মকর্তার অফিসে ধর্না দিয়েও তিনি স্ত্রীর পেনশনের ফাইল সাক্ষর করাতে পারেননি। শেষমেষ জেলা কর্মকর্তা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুনবীর কাছে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

উপায়ন্ত না পেয়ে তিনি জেলা দুদক সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরই বুধবার বিকালে ঘুষের টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান নুরুনবী। কার্যালয়ে গিয়ে নুরুনবীর দাবিকৃত ১ লাখ ২০ হাজার টাকাও দেন তিনি। এরপরই এদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুদক অভিযান চালায়। অভিযানে হাতেনাতে টাকাসহ শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটক করে দুদক।
অভিযানে যশোর দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুনবী উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুনবী বলেন, ‘মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল সাক্ষর করার জন্য অসংখ্যবার জেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। কিন্তু তিনি সাক্ষর করেননি। তিনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। একপর্যায়ে এক লাখ ২০ হাজার ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়াতে তিনি শাস্তিস্বরুপ ঝিকরগাছার একটি স্কুল থেকে আমাকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। যেহেতু তিনি আমার জেলার কর্মকর্তা; সেই কারণে তিনি আমাকে নানাভাবে দাপ্তরিক হেনস্তা করতেন। তার কাছ থেকে মানসিক হেনস্তা থেকে রেহাই পেতে তার দপ্তরে তাকে পা জড়িয়ে ধরলেও তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। উপায়ন্ত না পেয়ে তার দাবিকৃত ঘুষের টাকাসহ আজ (বুধবার) তার দপ্তরে আসি। এমন সময় দুদক তাকে আটক করেছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো. নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাক্ষেপে বুধবার দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে এবং আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।



















