ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে মেঘমল্লার বসু

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, রাজাকারের আস্ফালন দেখার জন্য নয়

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাবি সভাপতি মেঘমল্লার বসু ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলনে বক্তৃতা দেন -কপোতাক্ষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারকে পতন ঘটিয়েছি, রাজাকারের আস্ফালন দেখার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু।

আজ (শনিবার) বিকালে টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে ছাত্র ইউনিয়ন যশোরের ১৩তম সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেঘমল্লার বসু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুক্তিযুদ্ধের অপূর্ণ যে লড়াই সেই লড়াইকে পূর্ণতা দেওয়ার কথা বলেই জুলাই আন্দোলনে নেমেছিল জনগণ। কিন্তু একদল বিপথগামী বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই ২৪-কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরুদ্ধে দাঁড় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলায় জেলায় মহল্লায় তাদের যে অপতৎপরতা সেটা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সব জায়গায় বোঝানোর চেষ্টা করছে, জুলাই ৭১ লড়াইয়ের উল্টো। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কেউ যদি ফ্রান্স আমেরিকায় বসে বলে বাংলাদেশের শহীদ সংখ্যা দুই হাজার, তাহলে তার মোকাবেলা হবে রাজপথে। তার মোকাবেলা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক সামাজিকভাবে।

মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জনগণ জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছিল মন্তব্য করে মেঘমল্লার বসু বলেন, আমরা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম, তখন ৭১ যুদ্ধের প্রশ্নে, যারা বলেছিল, যারা ৭১ যুদ্ধে যাচ্ছে তারা ভারতের দালাল। হিন্দুদের দালাল। সেই একই গোষ্ঠী ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে এই ধর্মবিক্রির রাজনীতি করছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই বাংলাদেশ বহু ধর্মের, মতের দেশ। সেখানে যে যার মতো ধর্ম পালন করবে। সেটা কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারবে না; কে কিসের ধর্ম পালন করবে। ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের নাগরিক অধিকার, মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছিলাম।

বর্তমান অন্তবর্তী সরকারকে সমালোচনা করে মেঘমল্লার বসু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার আসলো, সেই সরকার প্রথমে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল। আওয়ামী লীগের বৈদেশিক নীতি আর এই দেশে চলবে না। আমরা এমন নীতি চাই, যেখানে অন্য রাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদাপূর্ণ। বাস্তবে আমরা দেখছি, ভারতের সাথে যেসব অসমচুক্তি হয়েছে, সেই অসমচুক্তির একটিও দূর হয়নি। আদানীর কাছ থেকে বেশি বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। রামপাল চুক্তি এখনও রয়েছে, ভারতের কাছে আম ইলিশ পাঠিয়ে কূটনীতিক রাজনীতিকে এখনও জারি রাখা হয়েছে। সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের কাছে দেশ বিক্রির যে পায়তারা সেটা অব্যাহত রয়েছে। দেশবিরোধী সকল শক্তিতে রুখে দিতে ছাত্র ইউনিয়ন সব সময় রাজপথে থাকবে।

যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত, সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, সিপিবি যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান, উদীচী যশোর সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, জেলা বাসদ নেতা ইমরান খান, যশোরের ১৩তম সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।

এর আগে, বিকালে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে মেঘমল্লার বসু

স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, রাজাকারের আস্ফালন দেখার জন্য নয়

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারকে পতন ঘটিয়েছি, রাজাকারের আস্ফালন দেখার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু।

আজ (শনিবার) বিকালে টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে ছাত্র ইউনিয়ন যশোরের ১৩তম সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেঘমল্লার বসু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুক্তিযুদ্ধের অপূর্ণ যে লড়াই সেই লড়াইকে পূর্ণতা দেওয়ার কথা বলেই জুলাই আন্দোলনে নেমেছিল জনগণ। কিন্তু একদল বিপথগামী বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই ২৪-কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরুদ্ধে দাঁড় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলায় জেলায় মহল্লায় তাদের যে অপতৎপরতা সেটা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সব জায়গায় বোঝানোর চেষ্টা করছে, জুলাই ৭১ লড়াইয়ের উল্টো। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কেউ যদি ফ্রান্স আমেরিকায় বসে বলে বাংলাদেশের শহীদ সংখ্যা দুই হাজার, তাহলে তার মোকাবেলা হবে রাজপথে। তার মোকাবেলা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক সামাজিকভাবে।

মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জনগণ জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছিল মন্তব্য করে মেঘমল্লার বসু বলেন, আমরা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম, তখন ৭১ যুদ্ধের প্রশ্নে, যারা বলেছিল, যারা ৭১ যুদ্ধে যাচ্ছে তারা ভারতের দালাল। হিন্দুদের দালাল। সেই একই গোষ্ঠী ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে এই ধর্মবিক্রির রাজনীতি করছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই বাংলাদেশ বহু ধর্মের, মতের দেশ। সেখানে যে যার মতো ধর্ম পালন করবে। সেটা কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারবে না; কে কিসের ধর্ম পালন করবে। ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের নাগরিক অধিকার, মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছিলাম।

বর্তমান অন্তবর্তী সরকারকে সমালোচনা করে মেঘমল্লার বসু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার আসলো, সেই সরকার প্রথমে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল। আওয়ামী লীগের বৈদেশিক নীতি আর এই দেশে চলবে না। আমরা এমন নীতি চাই, যেখানে অন্য রাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদাপূর্ণ। বাস্তবে আমরা দেখছি, ভারতের সাথে যেসব অসমচুক্তি হয়েছে, সেই অসমচুক্তির একটিও দূর হয়নি। আদানীর কাছ থেকে বেশি বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। রামপাল চুক্তি এখনও রয়েছে, ভারতের কাছে আম ইলিশ পাঠিয়ে কূটনীতিক রাজনীতিকে এখনও জারি রাখা হয়েছে। সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের কাছে দেশ বিক্রির যে পায়তারা সেটা অব্যাহত রয়েছে। দেশবিরোধী সকল শক্তিতে রুখে দিতে ছাত্র ইউনিয়ন সব সময় রাজপথে থাকবে।

যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাত, সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, সিপিবি যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান, উদীচী যশোর সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, জেলা বাসদ নেতা ইমরান খান, যশোরের ১৩তম সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।

এর আগে, বিকালে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা।