ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে বাউল নির্যাতনের প্রতিবাদে বৃহৎ সমাবেশ ও মিছিল

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল প্রতিবাদ আর মানবিক আবেদন-প্রত্যয় মুখর -কপোতাক্ষ

বাউল সম্রাট আবুল সরকারের অবিলম্বে মুক্তি এবং মানিকগঞ্জে বাউলদের ওপর সংঘটিত অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে যশোর শহরের গাড়িখানায় আজ (মঙ্গলবার) বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশ শেষে প্রতিবাদ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা একরাম উদদৌলা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু ও তসলিমুর রহমান, জাসদের অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, সিপিবির অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শামিম হোসেন, নতুন গণতান্ত্রিক গণমোর্চার খবির শিকদার, গণমুক্তি কাউন্সিলের জাহাঙ্গীর ফিরোজ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান ও ইমরান খান, মাওলানা ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশীদ।

বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও চিত্রশিল্পী মফিজুর রহমান রুন্নু ও সাংস্কৃতিক নেতা দীপংকর দাস রতন।

পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব সানোয়ার আলম খান দুলু।

সমাবেশে যশোরের বাউল শিল্পীরা লালন সঙ্গীত পরিবেশন করলে পুরো পরিবেশ প্রতিবাদ আর মানবিক আবেদন-প্রত্যয়ে মুখর হয়ে ওঠে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলার হাজার বছরের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি বাউল, জারি, পালাগান, যাত্রা আজ এক অন্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণের মুখে। তারা ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন মাজারে, পীর-মুর্শিদের আসরে এবং বাউল সাধকদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ এর ভয়াবহ প্রমাণ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মোকাবিলা করার পরিবর্তে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই উদাসীন ভূমিকা পালন করেছে। বাউল সম্রাট আবুল সরকারকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা ও তার মুক্তির দাবিতে দাঁড়ানো বাউলদের ওপর নির্মম হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমাদের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত।

বক্তারা অবিলম্বে বাউল সম্রাট আবুল সরকারের মুক্তি, তৌহিদী জনতার নামে পরিচালিত হামলার দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার এবং দেশব্যাপি বাউল ও লোকশিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে বাউল নির্যাতনের প্রতিবাদে বৃহৎ সমাবেশ ও মিছিল

আপডেট সময় : ০৪:১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

বাউল সম্রাট আবুল সরকারের অবিলম্বে মুক্তি এবং মানিকগঞ্জে বাউলদের ওপর সংঘটিত অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে যশোর শহরের গাড়িখানায় আজ (মঙ্গলবার) বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশ শেষে প্রতিবাদ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা একরাম উদদৌলা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু ও তসলিমুর রহমান, জাসদের অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, সিপিবির অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শামিম হোসেন, নতুন গণতান্ত্রিক গণমোর্চার খবির শিকদার, গণমুক্তি কাউন্সিলের জাহাঙ্গীর ফিরোজ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান ও ইমরান খান, মাওলানা ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশীদ।

বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও চিত্রশিল্পী মফিজুর রহমান রুন্নু ও সাংস্কৃতিক নেতা দীপংকর দাস রতন।

পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব সানোয়ার আলম খান দুলু।

সমাবেশে যশোরের বাউল শিল্পীরা লালন সঙ্গীত পরিবেশন করলে পুরো পরিবেশ প্রতিবাদ আর মানবিক আবেদন-প্রত্যয়ে মুখর হয়ে ওঠে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলার হাজার বছরের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি বাউল, জারি, পালাগান, যাত্রা আজ এক অন্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণের মুখে। তারা ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন মাজারে, পীর-মুর্শিদের আসরে এবং বাউল সাধকদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ এর ভয়াবহ প্রমাণ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মোকাবিলা করার পরিবর্তে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই উদাসীন ভূমিকা পালন করেছে। বাউল সম্রাট আবুল সরকারকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা ও তার মুক্তির দাবিতে দাঁড়ানো বাউলদের ওপর নির্মম হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমাদের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত।

বক্তারা অবিলম্বে বাউল সম্রাট আবুল সরকারের মুক্তি, তৌহিদী জনতার নামে পরিচালিত হামলার দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার এবং দেশব্যাপি বাউল ও লোকশিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।