ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যর চিরবিদায়

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

চিরবিদায় নিলেন যশোরের কৃতি সন্তান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির অন্যতম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোর শহরের বেজপাড়ার ভাড়া বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

যশোরের রাজনীতিতে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। তিনি রাজনীতির সর্বোচ্চ স্থান, অর্থাৎ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও অর্থ-বিত্ত-বৈভব অর্জন করেননি।

মৃত সুধীর কুমার ভট্টাচার্য্য ও মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্যরে সাত সন্তানের প্রথম সন্তান পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ১৯৪০ সালের ১ মার্চ যশোর জেলার মণিরামপুর থানার পাড়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৪ ভাই, ৩ বোন। বড় বোন সবিতা ভারতের বিহারে থাকেন, মেজ বোন কবিতা মারা গেছেন, ছোট বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক পরিতোষ সরকারের স্ত্রী, বর্তমানে অবসর জীবনে দু’জনে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মেজ ভাই স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী। সেজ ভাই অরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য মুক্তিযোদ্ধা এবং সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। ছোট ভাই বরুণ ভট্টাচার্য্য গ্রামে বসবাস করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে সর্বশেষ ঘোষিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলির সদস্য নির্বাচিত হন।

যশোর শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ছিলেন যুক্ত। উদীচী, সুরধুনী, পুনশ্চ, যশোরের উপদেষ্টা ছিলেন।

সামাজিক মানুষ হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন কেশবপুরে ১২টি এবং মণিরামপুরে ২৫টি প্রাইমারি স্কুল গড়ে তোলেন। সেখানে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যাদি তিনিই সম্পন্ন করেন।

তাঁর গ্রামের স্কুল গোপালপুর স্কুলের বিজ্ঞানাগারে সেই সময় লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রপাতি এবং মণিরামপুর কলেজেও একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়নে সহযোগিতা করেন।

মণিরামপুরে হাসপাতাল, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিদ্যুৎ প্রভৃতি অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সেসময় ভূমিকা পালন করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বেজপাড়ায় স্ত্রী মনিকা ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে বসবাস করতেন।

পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যরে দুই ছেলে, দুই মেয়ে সকলেই যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। বড় ছেলে বাবলু ভট্টাচার্য্য চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত। ছোট ছেলে পার্থ এবং ছোট মেয়ে তাপসী সুইডেনে থাকেন। আর বড় মেয়ে যশোরের অন্যতম আবৃত্তিকার তপতী, স্বামী সন্তান নিয়ে কলকাতাতে আছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে নীলগঞ্জ মহাশশ্মানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে, যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরধুনির সভাপতি হারুন অর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, চাঁদের হাটের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব সরদার অপু, বিবর্তন যশোরের সাবেক সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, কিংশুক সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল করিম সোহেল, পুনশ্চের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাদল ও সম্পাদক পান্না লাল দে, সপ্তসুরের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যর চিরবিদায়

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চিরবিদায় নিলেন যশোরের কৃতি সন্তান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির অন্যতম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যশোর শহরের বেজপাড়ার ভাড়া বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

যশোরের রাজনীতিতে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। তিনি রাজনীতির সর্বোচ্চ স্থান, অর্থাৎ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও অর্থ-বিত্ত-বৈভব অর্জন করেননি।

মৃত সুধীর কুমার ভট্টাচার্য্য ও মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্যরে সাত সন্তানের প্রথম সন্তান পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ১৯৪০ সালের ১ মার্চ যশোর জেলার মণিরামপুর থানার পাড়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৪ ভাই, ৩ বোন। বড় বোন সবিতা ভারতের বিহারে থাকেন, মেজ বোন কবিতা মারা গেছেন, ছোট বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক পরিতোষ সরকারের স্ত্রী, বর্তমানে অবসর জীবনে দু’জনে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মেজ ভাই স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী। সেজ ভাই অরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য মুক্তিযোদ্ধা এবং সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। ছোট ভাই বরুণ ভট্টাচার্য্য গ্রামে বসবাস করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে সর্বশেষ ঘোষিত যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলির সদস্য নির্বাচিত হন।

যশোর শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ছিলেন যুক্ত। উদীচী, সুরধুনী, পুনশ্চ, যশোরের উপদেষ্টা ছিলেন।

সামাজিক মানুষ হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন কেশবপুরে ১২টি এবং মণিরামপুরে ২৫টি প্রাইমারি স্কুল গড়ে তোলেন। সেখানে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যাদি তিনিই সম্পন্ন করেন।

তাঁর গ্রামের স্কুল গোপালপুর স্কুলের বিজ্ঞানাগারে সেই সময় লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রপাতি এবং মণিরামপুর কলেজেও একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিজ্ঞানাগার আধুনিকায়নে সহযোগিতা করেন।

মণিরামপুরে হাসপাতাল, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিদ্যুৎ প্রভৃতি অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সেসময় ভূমিকা পালন করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বেজপাড়ায় স্ত্রী মনিকা ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে বসবাস করতেন।

পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যরে দুই ছেলে, দুই মেয়ে সকলেই যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। বড় ছেলে বাবলু ভট্টাচার্য্য চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত। ছোট ছেলে পার্থ এবং ছোট মেয়ে তাপসী সুইডেনে থাকেন। আর বড় মেয়ে যশোরের অন্যতম আবৃত্তিকার তপতী, স্বামী সন্তান নিয়ে কলকাতাতে আছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে নীলগঞ্জ মহাশশ্মানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে, যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুরধুনির সভাপতি হারুন অর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, চাঁদের হাটের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব সরদার অপু, বিবর্তন যশোরের সাবেক সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, কিংশুক সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল করিম সোহেল, পুনশ্চের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাদল ও সম্পাদক পান্না লাল দে, সপ্তসুরের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।