কাজী এনামকে জেডিএসএ’র সদস্য করায় অবস্থান কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩২৭ বার পড়া হয়েছে
বিসিবির সাবেক পরিচালক কাজী এনাম আহমেদকে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার (জেডিএসএ) অ্যাডহক কমিটির সদস্য করায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার ক্রীড়া সংগঠকরা।
আজি (বুধবার) দুপুরে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের আমেনা খাতুন গ্যালারির নিচে তারা অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে ক্রীড়া সংগঠকররা ছাড়াও সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা অংশ নেন।
কর্মসূচি থেকে অনতিবিলম্বে কাজী ইনাম আহমেদকে অপসারণ না করলে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ। একইসাথে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
যশোর ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, আজ আমরা এক হয়েছি জেডিএসএ-কে বাঁচানোর জন্য। পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিলের ভাই কাজী এনাম আহমেদ বারবার বিশেষ পন্থায় বিসিবির পরিচালক হন। আর এই পরিচালক হতে হলে তাকে অব্যশই জেডিএসএ-এর সদস্য হতে হয়। আমরা দেখেছি, যখনই বিসিবির ভোট আসে; তখনই এনাম মরিয়া হয়ে উঠেন। বিশেষ উপায়ে তিনি জেডিএসএ-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। ইতিমধ্যে তার অক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর যশোরের ক্রীড়া সংগঠকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় খেলাধুলার ব্যাপারে কোনো খোঁজখবর রাখেননি। যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে তার কোনো অবদানই নেই। এমনিতেই যশোরে ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আমরা এমন ফ্যাসিস্টকে আর যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে দেখতে চাই না। তাকে দ্রুত অপসারণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবেও বলে জানান তিনি।
নেতৃবৃন্দ জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি করার নির্দেশনা দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এ ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর ৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৯ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া অফিসারকে সদস্যসচিব রেখে কমিটির সদস্য করা হয়েছে জেডিএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকউজ্জামান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও জেডিএসএ’র সাবেক সহসভাপতি এজেডএম সালেক, ক্রীড়া সংগঠক কাজী ইনাম আহমেদ, এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহম্মদ বুরহান উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি সামিউল আলম শিমুল ও ক্রীড়া সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবুকে।
অ্যাডহক কমিটি গঠনের আট মাস পর ক্রীড়া সংগঠক শ্রীনিবাস হালদারের স্থলে বিসিবির সাবেক পরিচালক কাজী এনাম আহমেদকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ভাই। শেখ হাসিনা সরকার আমলে এমপি ভাইয়ের তদ্বিরে যশোরের প্রতিনিধি হয়ে পরপর দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব পান তিনি। নতুন কমিটি জানাজানি হওয়ার পর কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে।
যশোরের খেলাধুলার সাথে কখনও সম্পৃক্ত ছিলেন না কাজী ইনাম আহমেদ। তাকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোরের ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের কেউ কেউ। আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে ভোটার হওয়ার সুযোগ নিতেই ইনাম ‘বিশেষ উপায়ে’ অ্যাডহক কমিটির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য ছাড়া কেউ বিসিবি’র প্রতিনিধি হতে পারবেন না।



















