যশোরে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩০২ বার পড়া হয়েছে
যশোরে সাপের কামড়ে মোসা. তামান্না (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) ভোররাতে সদর উপজেলার ডাঙ্গাবয়রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত তামান্না ঐ গ্রামের জুয়েল রানার স্ত্রী।
জুয়েল রানা জানান, তামান্না নিজ ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়েছিলেন। ভোররাতে একটি বিষাক্ত সাপ তার বাম হাতের আঙুলে কামড় দেয়। তীব্র যন্ত্রণার কারণে প্রথমে তাকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নেয়া হয়।
অবস্থার অবনতি ঘটায় সকাল ৯টার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩১ আগস্ট মনিরামপুর বিজয়রামপুরে দুই শিশুকে সাপের দংশনের ঘটনা ঘটে। স্বজনরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে সাপের বিষের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীদের হাসপাতাল থেকে ফেরত দেওয়া হয়।
এরপর পরিবারের লোকজন আহত দুই শিশুকে পাশের পেয়ারাতলা গ্রামে নিয়ে সাপের বিষ নামানোর জন্য ওঝা (কবিরাজ) দিয়ে ঝাড়ফুঁক শুরু করায়। কাজ না হলে পরে চালকিডাঙ্গা গ্রামের আরেক ওঝার কাছে নেওয়া হয়। চালকিডাঙ্গার ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় শিশু আজিমের মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন সাপে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছর শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৩৭ জন। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যে এক বছরের বেশি সময় জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে সরকারিভাবে সরবরাহ নেই অ্যান্টিভেনম বা সাপের বিষের প্রতিষেধক নেই। হাসপাতালগুলোতে রোগী আসলে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল ফান্ডের টাকায় বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা।
হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত এন্টিভেনাম না থাকাতে সাপে দংশনের পর স্থানীয়রা ছুটছেন ওঝাদের কাছে। এতে সময় ক্ষেপণের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন সাপে কাটা রোগী।



















