মৃত্যুর কাছে পরাস্ত বাসে পিষ্ট সেই ফারিহা
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে
পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেল যশোরের খাজুরা মণীন্দ্রনাথ মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিহা সুলতানা (১৩)।
আজ (সোমবার) বেলা ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফারিহার চাচা গোলাম রসূল।
গত ২৩ জুলাই যশোর-মাগুরা সড়কের কোদালিয়া বাজারে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠতে গেলে তাড়াহুড়ো করে চালক বাস ছেড়ে দিলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয় ফারিয়া। এই ঘটনায় ঘাতক বাস চালক কিংবা কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফারিহা যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমানের মেয়ে।
ফারিহার স্বজন ও পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে বাসস্টপেজে দাঁড়িয়েছিল ফারিয়া। যশোর থেকে ছেড়ে আসা মাগুরাগামী যাত্রীবাহী লোকাল বাস সকাল ৯টার পরপরই কোদালিয়া বাজারে এসে থামে। এ সময় ফারিহা বাসে উঠতে গেলে তাড়াহুড়ো করে চালক বাস ছেড়ে দিলে তার কোমরের ওপর দিয়ে বাসের পেছনের চাকা উঠে যায়। এতে ফারিহা গুরুতর জখম হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুপুর ১২টার দিকে আহত ঐ শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাসটি ভাঙচুর করে এবং যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে খাজুরা বাজার বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
ফারিহার স্বজনরা জানান, চার ভাই বোনের মধ্যে ফারিহা মেজ। ফারিহার বাবা হতদরিদ্র কৃষক। পরের জমিতে কৃষি কাজ করেই সংসার চালান। সড়ক দুর্ঘটনায় ফারিহার কোমরের অংশ থেকে পা পর্যন্ত পিষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎ করে এই দুর্ঘটনায় পাগলপ্রায় হয়ে যায় হতদরিদ্র পরিবারের বাবা মাহবুবুর রহমান।
ফারিহার চাচা গোলাম রসূল মুঠোফোনে বলেন, ‘ফারিহাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। দুর্ঘটনায় ফারিহার কোমর, দুই পা পর্যন্ত এমনভাবে পিষ্ট হয়েছে, কোনটি কি সেটা বুঝার উপায় নেই। পাঁচদিন ধরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা চলছিল। তার ডান পায়ে পঁচন ধরেছিল। সোমবার দুপুরে তার অস্ত্রপচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ফারিহার বাবা হতদরিত্র। কিন্তু তার সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতো। সব সন্তানেরই পড়াশোনা করিয়েছে। ফারিহাকে খুব আদর করতো। দুর্ঘটনায় এভাবে সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার মা-বাবা। এভাবে যেন কারও সন্তান অকালে ঝরে না পড়ে; এইজন্য সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান ফারিহার এ চাচা। মরদেহ ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খাজুরা মণীন্দ্রনাথ মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়েছে। খবর পেয়ে স্কুলের বাচ্চারা বিমর্ষ হয়ে পড়েছে। তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল নাগাদ তার মরদেহ আনা হতে পারে জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নামাজে জানাজার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।’
এদিকে এই দুর্ঘটনায় নিহত ফারিহার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে দুর্ঘটনায় জন্য দায়ী বাসচালক, হেলপারকে আটক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটওভার ব্রিজ, স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক ব্যবস্থার নিশ্চিতসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।



















