ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বেনাপোল কাস্টম হাউস

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১.৫১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫ ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোল কাস্টম হাউস -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১.৫১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ হাজার ২১.৫১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয় ৬ হাজার ১৬৭.৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৯.৩৮ কোটি টাকা বেশি।

কাস্টমস ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার ঐক্য পরিষদের কলম বিরতি ও কমপ্লিট শাটডাউনের অস্থিরতার মধ্যেও রাজস্ব আদায়ের যে ধারাবাহিকতা চলছে, তাতে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা দফতরে উপস্থিত থেকে রাজস্ব আদায় তদারকি করায় চলতি অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান।

দূরত্ব কম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাংলাদেশি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বছরে পণ্য আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী গত অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত থেকে ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৪০.২১ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও সঠিক শুল্কায়ন করায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হচ্ছে এবং ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক রপ্তানি হচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন তরফদার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭৭৪.৮৫ মেট্রিক টন রফতানি হয়েছে। এটি অবশ্য পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় কম।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সম্ভব হয়েছে। এ হাউসে সার্বিক আমদানির পরিমান ৮ শতাংশ কম হলেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এটি হাউজের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এছাড়া জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করায় শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা কমে গেছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে রাজস্ব আদায়সহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেনাপোল কাস্টম হাউস

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১.৫১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১.৫১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ হাজার ২১.৫১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শতকরা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয় ৬ হাজার ১৬৭.৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১৯.৩৮ কোটি টাকা বেশি।

কাস্টমস ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার ঐক্য পরিষদের কলম বিরতি ও কমপ্লিট শাটডাউনের অস্থিরতার মধ্যেও রাজস্ব আদায়ের যে ধারাবাহিকতা চলছে, তাতে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা দফতরে উপস্থিত থেকে রাজস্ব আদায় তদারকি করায় চলতি অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান।

দূরত্ব কম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাংলাদেশি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বছরে পণ্য আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী গত অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত থেকে ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৪০.২১ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও সঠিক শুল্কায়ন করায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হচ্ছে এবং ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক রপ্তানি হচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন তরফদার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ৭৭৪.৮৫ মেট্রিক টন রফতানি হয়েছে। এটি অবশ্য পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় কম।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সম্ভব হয়েছে। এ হাউসে সার্বিক আমদানির পরিমান ৮ শতাংশ কম হলেও রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এটি হাউজের উল্লেখযোগ্য অর্জন। এছাড়া জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করায় শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা কমে গেছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে রাজস্ব আদায়সহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।