‘জুলাই বিক্রি করিনি আমি’
পদত্যাগ প্রসঙ্গে রাশেদ খান যা বললেন
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান পদত্যাগ প্রসঙ্গে দৈনিক কপোতাক্ষে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোর জেলার আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার তথ্য নিশ্চিত করে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, ‘আমি সবসময় আমার শ্রম, মেধা, অর্থ, ধৈর্য ও সময় ব্যয় করে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে; কতটা পেরেছি সেটা মূল্যায়ন করার দায়িত্ব আপনাদের। কিন্তু আমি আমার নিজেকে যদি মূল্যায়ন করি, সেক্ষেত্রে বলবো, আরো ভালোকিছু হওয়া উচিত ছিল।’
নিজের আর্থিক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন আর্টিস্ট, ব্যক্তিগতভাবে আমি দীর্ঘদিন যাবৎ পেশাগত কোনো কর্মে যুক্ত না থাকায় অর্থকষ্টে আছি। আমার বিরুদ্ধে যেসকল অর্থ বিষয়ক/ব্যাংক ব্যালেন্স বিষয়ক মুখরোচক গল্প উৎপাদন করা হয়, তা নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত, এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত! কারণ আমার বাস্তবতা আমি নিজে ফেইস করি। তবু যদি কারো সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার অনুরোধ রইলো। আমি এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, ‘এতটুকু বলতে পারি, জুলাই বিক্রি করিনি আমি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিখিত কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ না থাকলেও আমার নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে, সেটা হয়তো অনেকের সাথে মিলবে না। এই প্লাটফর্মে থেকে আমার সহযোদ্ধাদের সাথে অসংখ্য ভালো কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তার জন্য আমি গর্বিত। আমার শ্রেণীর লড়াই, ন্যায্যতার লড়াই জারি থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো নির্দেশনা না থাকায়, সংগঠন সারা দেশেই স্তিমিত হয়ে গেছে। স্ব স্ব ইউনিট থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। একইসাথে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এনসিপি, যুবশক্তি, বাগছাস ইত্যাদি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি কমন প্লাটফর্ম হলেও এর নবগঠিত কমিটি এনসিপি দ্বারা প্রভাবিত একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে! তবু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্লাটফর্ম হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সবসময় শুভকামনা থাকবে। গণমানুষের কল্যাণে তাদের নিবেদনকে আমি সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখবো।’
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহ্বায়ক রাশেদ খান তার ব্যবহৃত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোর জেলার ‘আহ্বায়ক’ পদ থেকে আমি স্বেচ্ছায় অব্যহতি নিচ্ছি; এবং একই সাথে এনসিপি ও এর ছাত্র কিংবা যুব উইং এর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে যখন সারাদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন হচ্ছে, এমন সময়ে রাশেদের পদত্যাগের স্ট্যাটাসে হতবাক হয়েছেন নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। মুহূর্তে তার পোস্টের স্কিনশর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনাও করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গতবছরের ২৬ নভেম্বর রাশেদ খানকে আহ্বায়ক এবং জেসিনা মুর্শীদ প্রাপ্তিকে সদস্যসচিব করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে জেলা কমিটির অনেকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক-১ মাসুম বিল্লাহ। এর পরের সপ্তাহে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আরও ৭ নেতা পদত্যাগ করেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা কমিটি গঠন সংক্রান্ত সাংগঠনিক নীতি বহির্ভূত কর্মকান্ডের জেরে সদস্য সচিব জেসিনা মোর্শেদ প্রাপ্তির পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে নীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠায় অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত কর্মসূচিতেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায় হাতেগোনা কয়েক জনদের।
নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত বছরে কোটা আন্দোলনের প্রথম থেকেই যশোরে নেতৃত্ব দেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ খান। বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই শিক্ষার্থী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি জেলায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার পুরস্কারস্বরুপ পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর কমিটির দায়িত্বভার তুলে দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
হঠাৎ কমিটি থেকে পদত্যাগ করায় হতবাক হয়েছেন নিজ দলের নেতাকর্মীসহ জেলার বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষেরা। রাশেদের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গুঞ্জন উঠেছে কয়েকদিনের মধ্যে জেলা কমিটির আরও ডজনখানেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। তারা সবাই রাশেদের অনুসারী হিসাবেই পরিচিত।



















