ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘুষ না দিলে ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি!

নড়াইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ ৪২৩ বার পড়া হয়েছে

কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ -কপোতাক্ষ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, হেনস্তা ও ডিলারশিপ বাতিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার শেখ জামিল আহমেদ আজ (রোববার) নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী কালিয়া উপজেলার মহাজন বাজারের মেসার্স আরাফাত টেডার্সের স্বত্বাধিকারী।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কালিয়া উপজেলার বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার। দীর্ঘদিন তিনি উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে সার ও বীজ বিক্রি করে আসছেন। মাল গুদামজাত করার জন্য কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। প্রতিবার সাক্ষর করাতে গেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন, ঘুষ না দিলে হেনস্তা করেন এবং ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি দেন। এছাড়া তার ডিলারশিপ বাতিল করে মহাজন বাজারের সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে ডিলারশিপ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে একলাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সামিউল ৭০ হাজার টাকা জোগাড় করে ইভা মল্লিককে দেওয়ার কথা বললে তিনি একলাখ ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হবে না বলে তাকে জানান। সামিউলের বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ আছে বলে অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগে আরও জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা তাকে বিএনপি করার অপরাধে ডিলারশিপ বাতিল এবং আওয়ামী লীগপন্থি লোকজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া এই কর্মকর্তা গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে তার পছন্দের লোকজনের কাছে গোপনে সার বিক্রির নির্দেশ দেন। তার এসব অনিয়ম মেনে না নেওয়ায় অ্যারাইভাল ও রেজিস্ট্রার খাতায় স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এছাড়া ইভা মল্লিকের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রায়শই ডিলারদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এই কর্মকর্তার কাছে কালিয়া উপজেলার ডিলার ও কৃষকরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এতে কালিয়া উপজেলার কৃষিখাতের উন্নয়ন থমকে গেছে। তাছাড়া ইভা মল্লিকের স্বেচ্ছাচারিতায় সেবাপ্রার্থীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

জামিলের অভিযোগে উল্লিখিত সামিউল ইসলাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক আমার কাছে ডিলারশিপ দেওয়ার বিনিময়ে একলাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি বলেন, জামিলদের ডিলারশিপ বাতিল করে সেটি আমাকে দেবেন। পরে আমি ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, এক লাখের কম হলে হবে না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, জামিল বিএডিসির ডিলার হলেও মৌসুমি ব্যবসায়ী। মৌসুমে মাল তুলে স্বাক্ষর করাতে আসেন। ফেব্রুয়ারিতে চালানে স্বাক্ষর নিয়েছেন, মার্চে মাল তোলেননি। এপ্রিল-মে মাসে মাল তুলে নড়াইলে বিক্রি করেছেন। আমি তাকে নিয়ম মেনে নিজের ঘরে মাল তুলে কৃষকদের সার দিতে বলেছিলাম। এজন্যই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ পড়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘুষ না দিলে ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি!

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, হেনস্তা ও ডিলারশিপ বাতিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার শেখ জামিল আহমেদ আজ (রোববার) নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী কালিয়া উপজেলার মহাজন বাজারের মেসার্স আরাফাত টেডার্সের স্বত্বাধিকারী।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কালিয়া উপজেলার বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার। দীর্ঘদিন তিনি উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে সার ও বীজ বিক্রি করে আসছেন। মাল গুদামজাত করার জন্য কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। প্রতিবার সাক্ষর করাতে গেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন, ঘুষ না দিলে হেনস্তা করেন এবং ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি দেন। এছাড়া তার ডিলারশিপ বাতিল করে মহাজন বাজারের সামিউল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে ডিলারশিপ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে একলাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সামিউল ৭০ হাজার টাকা জোগাড় করে ইভা মল্লিককে দেওয়ার কথা বললে তিনি একলাখ ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হবে না বলে তাকে জানান। সামিউলের বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ আছে বলে অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগে আরও জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা তাকে বিএনপি করার অপরাধে ডিলারশিপ বাতিল এবং আওয়ামী লীগপন্থি লোকজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া এই কর্মকর্তা গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে তার পছন্দের লোকজনের কাছে গোপনে সার বিক্রির নির্দেশ দেন। তার এসব অনিয়ম মেনে না নেওয়ায় অ্যারাইভাল ও রেজিস্ট্রার খাতায় স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এছাড়া ইভা মল্লিকের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রায়শই ডিলারদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এই কর্মকর্তার কাছে কালিয়া উপজেলার ডিলার ও কৃষকরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এতে কালিয়া উপজেলার কৃষিখাতের উন্নয়ন থমকে গেছে। তাছাড়া ইভা মল্লিকের স্বেচ্ছাচারিতায় সেবাপ্রার্থীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

জামিলের অভিযোগে উল্লিখিত সামিউল ইসলাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক আমার কাছে ডিলারশিপ দেওয়ার বিনিময়ে একলাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি বলেন, জামিলদের ডিলারশিপ বাতিল করে সেটি আমাকে দেবেন। পরে আমি ৭০ হাজার টাকা নিয়ে গেলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, এক লাখের কম হলে হবে না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিক বলেন, জামিল বিএডিসির ডিলার হলেও মৌসুমি ব্যবসায়ী। মৌসুমে মাল তুলে স্বাক্ষর করাতে আসেন। ফেব্রুয়ারিতে চালানে স্বাক্ষর নিয়েছেন, মার্চে মাল তোলেননি। এপ্রিল-মে মাসে মাল তুলে নড়াইলে বিক্রি করেছেন। আমি তাকে নিয়ম মেনে নিজের ঘরে মাল তুলে কৃষকদের সার দিতে বলেছিলাম। এজন্যই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দীন বলেন, অভিযোগ পড়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।