মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
১৯ পরিবারের ৪৯ লাখ টাকার ক্ষতি, আটক ৩
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫ ৩৬০ বার পড়া হয়েছে
ডহরমশিয়াহাটী গ্রামের বেড়েধাপাড়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, তাণ্ডব, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ক্ষতচিহ্ন -কপোতাক্ষ
যশোরের অভয়নগরে সুন্দলী ইউনিয়নের ডহরমশিয়াহাটী গ্রামে বেড়েধাপাড়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, তাণ্ডব, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ১৯ পরিবারের অন্তত ৪৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাসের স্ত্রী কল্পনা বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জন হামলাকারীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দল সভাপতি তরিকুল ইসলাম হত্যাকে কেন্দ্র করে মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৯টি পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ৩ জন হলেন : উপজেলার সরখোলা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে ইমন হোসেন (৩০), একই গ্রামের মতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে রিফাতুল ইসলাম রাতুল (২৩) ও বুইকারা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৭)।
মামলার বাদী কল্পনা বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২২ মে বৃহস্পতিবার কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ থেকে ১৫০ জন দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোলসহ আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা বসতঘরের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুট করে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর হামলাকারীরা আমার প্রতিবেশী শংকর বিশ্বাস, মহিতোষ বিশ্বাস, দিলীপ বিশ্বাস, বিষ্ণু বিশ্বাস, বিপ্রজিৎ বিশ্বাস, অজিত বিশ্বাস, বিকাশ বিশ্বাস, প্রতাপ বিশ্বাস, প্রণব বিশ্বাস, বাসুদেব বিশ্বাস, সুকৃতি বিশ্বাস, পরিতোষ বিশ্বাস, বারিন বিশ্বাস, মনিশান্ত বিশ্বাস, পবন বিশ্বাস, অমর বিশ্বাস, সমর বিশ্বাস ও দিনেশ বিশ্বাসের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে ১৯টি পরিবারের প্রায় ৪৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে হামলাকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত পবিারগুলোকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মামলা করা হলে বাদীকে হত্যা করা হবে বলে তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়।’
কল্পনা বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে সোমবার (২৬ মে) রাতে আমি নিজে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেছি। চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে।’
এ ব্যাপারে আজ (বুধবার) অভয়নগর থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘ডহরমশিয়াহাটী গ্রামে মতুয়া সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী কল্পনা বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অপর জড়িতদের শনাক্তকরণের পাশাপাশি আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘তরিকুল হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ফিরোজ খান, সাগর বিশ্বাস, দিনেশ ও সুমন নামে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের আটকে অভিযান চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২২ মে) উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহরমশিয়াহাটী গ্রামে বেড়েধাপাড়ায় পিন্টু বিশ্বাসের বাড়িতে খুন হয় নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। মৎস্যঘেরের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তরিকুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঐ রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা পিন্টু বিশ্বাসের বাড়িসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৯টি পরিবারের ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।


















