ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

একেই কী বলে পালিত সন্তান!

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

মনিহারের ফলপট্টিতে পালিত সন্তানের হাতে হত্যার শিকার হলেন খানম রুমি -কপোতাক্ষ

যশোরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পালিত ছেলের বিরুদ্ধে। আজ (শনিবার) শহরের মনিহারস্থ ফলপট্টি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ৯৯৯-এ ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ বিকাল পাঁচটার দিকে নিহত খালেদা খানম রুমির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে শেখ শামসকে (২২) আটক করেছে। নিহত খালেদা এই এলাকার মৃত শেখ শাহজাহানের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মনিহারের ফলপট্টির শামস্ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় খালেদা খানম বসবাস করতেন। তার কোনো সন্তান না থাকায় তিন মাস বয়স থেকে অভিযুক্ত ছেলে শামসকে দত্তক সন্তান হিসাবে বাড়িতে রাখতেন। শনিবার সকাল থেকে ফলপট্টির দোকানদাররা পানি না পাওয়াতে খালেদাকে ডাকাডাকি করেন। ঘর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে চলে যান। দুপুরে আবার ডাকাডাকি করেন। ভিতর থেকে কেউ দরজা না খোলাতে দোকানদাররা ৯৯৯-এ কল দেন। স্থানীয় ফাঁড়ির সদস্যরা এসে ডাকাডাকি করলে শামস্ দরজা খোলে। এসময় পুলিশ ও দোকানদাররা খালেদার খোঁজ নিলে বাড়িতে নাই বলে জানিয়ে দেয়। পুলিশের সন্দেহ হলে খালেদার কক্ষের দরজার কাছে গেলে দরজা খুলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শুক্রবার রাত ১টার দিকে খালেদাকে লাঠি দিয়ে পিটিতে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন। খালেদার কক্ষে মরদেহ রয়েছে বলেও শামস্ পুলিশকে জানান। পরে খালেদার স্বজনের উপস্থিতিতে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শামস মাদকাসক্ত। বিভিন্ন সময়ে মাদকের টাকার জন্য সে তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী নাসির হোসেন নামে শামস মার্কেটের ভাড়াটিয়া বলেন, ‘শামস্ মার্কেটটি এই অঞ্চলের বৃহৎ ফলপট্টি। সকালে নিচের দোকানগুলোর পানি না পাওয়াতে দ্বিতীয় তলাতে এসে খালেদাকে ডেকে না পেয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়বার দুপুরের পরে আবার ডাকাডাকি করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কেউ দরজা না খোলাতে আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিই। কল দিলে পুলিশ এসে অনেক ডাকাডাকি করলে অবশেষে শাসম্ দরজা খোলে। সে জানিয়ে দেয় তার মা খুলনাতে গেছে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়ে দেয়। তিনি বলেন, খালেদার কোনো সন্তান নেই। দত্তক নিয়ে শামসকে বড় করেছে। সেই তিন মাস বয়স থেকে ছেলের মতো মানুষ করেছে। শহরের সবচেয়ে নামকরা স্কুল দাউদ পাবলিকে পড়িয়েছে। নেশাগ্রস্ত হওয়াতে ক্লাস নাইনের পর সে আর পড়াশোনা করেনি। তারপরও শামসকে অনেক ভালোবাসতো খালেদা আপা। এমনকি এই মার্কেটটি তার নামে লিখে দিয়েছে। আমরা দেখেছি খালেদা কখনো সৎ ছেলের মতো দেখেনি শামসকে। তারপরও সে জঘন্য কাজটি করলো, তার মায়ের সাথেই।

খালেদার ভাইয়ের ছেলে যশোর নগর বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী জানান, ‘প্রায় শুনতাম শামস্ আমার ফুফুরে মারধর করতো। মাদকাসক্ত ছিল সে। নিজের ছেলে না হলেও ছেলের মতো মানুষ করেছে। অথচ সেই মাকে নৃশংস হত্যা করেছে সে। এই হত্যার বিচার দাবি করছি।’

এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ছেলেটি মাদকাসক্ত। কি কারণে হত্যা করেছে, সেটা তদন্ত চলছে। ছেলেটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

একেই কী বলে পালিত সন্তান!

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

যশোরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পালিত ছেলের বিরুদ্ধে। আজ (শনিবার) শহরের মনিহারস্থ ফলপট্টি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ৯৯৯-এ ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ বিকাল পাঁচটার দিকে নিহত খালেদা খানম রুমির (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে শেখ শামসকে (২২) আটক করেছে। নিহত খালেদা এই এলাকার মৃত শেখ শাহজাহানের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মনিহারের ফলপট্টির শামস্ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় খালেদা খানম বসবাস করতেন। তার কোনো সন্তান না থাকায় তিন মাস বয়স থেকে অভিযুক্ত ছেলে শামসকে দত্তক সন্তান হিসাবে বাড়িতে রাখতেন। শনিবার সকাল থেকে ফলপট্টির দোকানদাররা পানি না পাওয়াতে খালেদাকে ডাকাডাকি করেন। ঘর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে চলে যান। দুপুরে আবার ডাকাডাকি করেন। ভিতর থেকে কেউ দরজা না খোলাতে দোকানদাররা ৯৯৯-এ কল দেন। স্থানীয় ফাঁড়ির সদস্যরা এসে ডাকাডাকি করলে শামস্ দরজা খোলে। এসময় পুলিশ ও দোকানদাররা খালেদার খোঁজ নিলে বাড়িতে নাই বলে জানিয়ে দেয়। পুলিশের সন্দেহ হলে খালেদার কক্ষের দরজার কাছে গেলে দরজা খুলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শুক্রবার রাত ১টার দিকে খালেদাকে লাঠি দিয়ে পিটিতে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেন। খালেদার কক্ষে মরদেহ রয়েছে বলেও শামস্ পুলিশকে জানান। পরে খালেদার স্বজনের উপস্থিতিতে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শামস মাদকাসক্ত। বিভিন্ন সময়ে মাদকের টাকার জন্য সে তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী নাসির হোসেন নামে শামস মার্কেটের ভাড়াটিয়া বলেন, ‘শামস্ মার্কেটটি এই অঞ্চলের বৃহৎ ফলপট্টি। সকালে নিচের দোকানগুলোর পানি না পাওয়াতে দ্বিতীয় তলাতে এসে খালেদাকে ডেকে না পেয়ে চলে যায়। দ্বিতীয়বার দুপুরের পরে আবার ডাকাডাকি করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কেউ দরজা না খোলাতে আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিই। কল দিলে পুলিশ এসে অনেক ডাকাডাকি করলে অবশেষে শাসম্ দরজা খোলে। সে জানিয়ে দেয় তার মা খুলনাতে গেছে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়ে দেয়। তিনি বলেন, খালেদার কোনো সন্তান নেই। দত্তক নিয়ে শামসকে বড় করেছে। সেই তিন মাস বয়স থেকে ছেলের মতো মানুষ করেছে। শহরের সবচেয়ে নামকরা স্কুল দাউদ পাবলিকে পড়িয়েছে। নেশাগ্রস্ত হওয়াতে ক্লাস নাইনের পর সে আর পড়াশোনা করেনি। তারপরও শামসকে অনেক ভালোবাসতো খালেদা আপা। এমনকি এই মার্কেটটি তার নামে লিখে দিয়েছে। আমরা দেখেছি খালেদা কখনো সৎ ছেলের মতো দেখেনি শামসকে। তারপরও সে জঘন্য কাজটি করলো, তার মায়ের সাথেই।

খালেদার ভাইয়ের ছেলে যশোর নগর বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী জানান, ‘প্রায় শুনতাম শামস্ আমার ফুফুরে মারধর করতো। মাদকাসক্ত ছিল সে। নিজের ছেলে না হলেও ছেলের মতো মানুষ করেছে। অথচ সেই মাকে নৃশংস হত্যা করেছে সে। এই হত্যার বিচার দাবি করছি।’

এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ছেলেটি মাদকাসক্ত। কি কারণে হত্যা করেছে, সেটা তদন্ত চলছে। ছেলেটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে।’