ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বলের মতো দেখতে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল নিয়ে খেলার সময় বিস্ফোরিত

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে তিন ভাই বোন হতাহত

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫ ৩১৭ বার পড়া হয়েছে

যশোরে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে তিন ভাইবোন হতাহত হয়েছে। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের শংকরপুর এলাকায় এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজাতুল কোবরা (৫) ঐ এলাকার সুমি খাতুন ও তার প্রয়াত স্বামী সুজনের মেয়ে। আহত অপর দু’জন হলো, সুমি খাতুন ও তার প্রয়াত স্বামী সুজনের ছেলে সবুজ আহম্মেদ (৭) এবং সুমি খাতুনের বর্তমান স্বামী শাহাদাত হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুন (৩)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঐ শিশুরা শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ নূরুন্নবী মেম্বরের বাড়ির এলাকার একটি মাঠে খেলা করছিল। খেলার সময় সবুজ বলের মতো দেখতে একটি বস্তু (ককটেল) কুড়িয়ে পায়। সেটিকে বাসায় নিয়ে এসে অন্য দুই ভাই-বোনের সাথে খেলা করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণে খাদিজা ও সবুজ গুরুতর আহত হয় এবং আয়েশাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খাদিজা ও সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডাক্তার ইমন হোসেন জানিয়েছেন, আহত তিনজনের মধ্যে খাদিজা ও সবুজের শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়।

প্রতিবেশি আক্তারুজ্জামান বলেন, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে নড়াইলে শিশু খাদিজার মৃত্যু হয়। স্বজনরা লাশ নিয়ে যশোরে ফিরেছেন।

তিনি আরও জানান, সকালে সবুজ বাড়ির পাশের মাঠে খেলা করছিল। বাড়ি আসার পথে একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু (ককটেল) কুড়িয়ে পায়। তখন সবুজ সেটি তুলে বাসায় এনে অন্যান্য বোনদের সাথে নিয়ে বল ভেবে খেলা করছিল। তখন নাড়াচাড়া করতেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।

এদিকে, এই ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা কুড়িয়ে পাওয়া বোমার স্থান ও ঘটনাস্থল পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং আর কোনো বোমা আছে-কিনা তা খুঁজে দেখেন। তবে সেখানে আর কোনো ককটেল-বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহত খাদিজার মা সুমি খাতুন বলেন, টেপ পেঁচানো বস্তুটিকে তিনিও বল মনে করেছেন। ছেলেমেয়েদের হাতে দেখে মনে করেছেন ওরা বল খেলছে। ব্লাস্ট হওয়ার পর প্রথমে মনে করেছেন কারেন্ট ব্লাস্ট হয়েছে। পরে বুঝতে পেরেছেন ওটি বোমা ছিল।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলের বিস্ফোরণে তিন শিশু আহত হয়। এর মধ্যে ঢাকা নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বলের মতো দেখতে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল নিয়ে খেলার সময় বিস্ফোরিত

যশোরে বোমা বিস্ফোরণে তিন ভাই বোন হতাহত

আপডেট সময় : ০২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

যশোরে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে তিন ভাইবোন হতাহত হয়েছে। আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের শংকরপুর এলাকায় এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত খাদিজাতুল কোবরা (৫) ঐ এলাকার সুমি খাতুন ও তার প্রয়াত স্বামী সুজনের মেয়ে। আহত অপর দু’জন হলো, সুমি খাতুন ও তার প্রয়াত স্বামী সুজনের ছেলে সবুজ আহম্মেদ (৭) এবং সুমি খাতুনের বর্তমান স্বামী শাহাদাত হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুন (৩)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঐ শিশুরা শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ নূরুন্নবী মেম্বরের বাড়ির এলাকার একটি মাঠে খেলা করছিল। খেলার সময় সবুজ বলের মতো দেখতে একটি বস্তু (ককটেল) কুড়িয়ে পায়। সেটিকে বাসায় নিয়ে এসে অন্য দুই ভাই-বোনের সাথে খেলা করার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণে খাদিজা ও সবুজ গুরুতর আহত হয় এবং আয়েশাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খাদিজা ও সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডাক্তার ইমন হোসেন জানিয়েছেন, আহত তিনজনের মধ্যে খাদিজা ও সবুজের শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়।

প্রতিবেশি আক্তারুজ্জামান বলেন, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে নড়াইলে শিশু খাদিজার মৃত্যু হয়। স্বজনরা লাশ নিয়ে যশোরে ফিরেছেন।

তিনি আরও জানান, সকালে সবুজ বাড়ির পাশের মাঠে খেলা করছিল। বাড়ি আসার পথে একটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু (ককটেল) কুড়িয়ে পায়। তখন সবুজ সেটি তুলে বাসায় এনে অন্যান্য বোনদের সাথে নিয়ে বল ভেবে খেলা করছিল। তখন নাড়াচাড়া করতেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।

এদিকে, এই ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা কুড়িয়ে পাওয়া বোমার স্থান ও ঘটনাস্থল পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং আর কোনো বোমা আছে-কিনা তা খুঁজে দেখেন। তবে সেখানে আর কোনো ককটেল-বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহত খাদিজার মা সুমি খাতুন বলেন, টেপ পেঁচানো বস্তুটিকে তিনিও বল মনে করেছেন। ছেলেমেয়েদের হাতে দেখে মনে করেছেন ওরা বল খেলছে। ব্লাস্ট হওয়ার পর প্রথমে মনে করেছেন কারেন্ট ব্লাস্ট হয়েছে। পরে বুঝতে পেরেছেন ওটি বোমা ছিল।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলের বিস্ফোরণে তিন শিশু আহত হয়। এর মধ্যে ঢাকা নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।