ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শহীদ জিয়ার নাম সামনে আসবে বলে বিগত সরকার খাল খননের উদ্যোগ নেয়নি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ডা. ডোরার মৃত্যুর অভিযোগ যশোরে প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর তেলপাম্পে অভিযান, জরিমানা নড়াইল এক্সপ্রেসে চলন্ত অবস্থায় আগুন, যাত্রীরা অক্ষত জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে যশোর কারাগারে ১৪৫৫ বন্দির পোলাও মাছ মাংস পায়েস যবিপ্রবিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বীর শহিদদের প্রতি যশোরে শ্রদ্ধাঞ্জলি মাঝপথে ডিপোর গাড়ি থামিয়ে বিক্রি হচ্ছে পেট্টোল, ভিডিও ভাইরাল যশোরের মঞ্চে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’

যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি পরিবারের

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ডা. ডোরার মৃত্যুর অভিযোগ

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার পরিবার সংবাদ সম্মেলনে চিবিৎসা অবহেলার কথা বর্ণনা করেন -কপোতাক্ষ

উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট থাকার পরও (পোস্টঅপারেটিভ) অস্ত্রোপচার পরবর্তী কেয়ার না পাওয়ার কারণে ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে পরিবার অভিযোগ করেছেন।

আজ (শনিবার) দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে এলাকাবাসী ও মৃতের পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন তার উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট ছিল এবং গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে গিয়েছিল। তবে প্রথমে চিকিৎসকরা সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুটি মৃত বলে জানা যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহান জরুরি অবস্থার পরও রাতে রোগীকে দেখতে আসেননি এবং প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সকালে স্বল্প সময়ের জন্য রোগী পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীর পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা বা ঝুঁকি মূল্যায়ন না করেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রোগীকে দীর্ঘ সময় স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হলেও তা গোপন রাখা হয় এবং দুপুরে হঠাৎ করে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানানো হয়।

ডোরার স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সময়মতো আইসিইউ বা এইচডিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি রোগীর গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি, বিলম্ব এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ডা. ডোরার মৃত্যু হয়েছে। একজন চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসা নিতে এসে এ ধরনের অবহেলার শিকার হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়, এ প্রশ্নও তোলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো : দায়ী চিকিৎসক ডা. রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসা লাইসেন্স বাতিল।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা আরও বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. ডোরার বাবা মানসুর উদ্দিন, স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন সুইট, মামা ফিরোজ উদ্দিন, এস এম শামীম এজাজসহ পরিবারের সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি পরিবারের

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ডা. ডোরার মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট থাকার পরও (পোস্টঅপারেটিভ) অস্ত্রোপচার পরবর্তী কেয়ার না পাওয়ার কারণে ডা. চাঁদ সুলতানা ডোরার মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে পরিবার অভিযোগ করেছেন।

আজ (শনিবার) দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে এলাকাবাসী ও মৃতের পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. ডোরার মা শিরিন সৈয়দা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন তার উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্ট ছিল এবং গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে গিয়েছিল। তবে প্রথমে চিকিৎসকরা সন্তানের হার্টবিট স্বাভাবিক বলে আশ্বস্ত করলেও পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রামে শিশুটি মৃত বলে জানা যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্বরত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রেহনুমা জাহান জরুরি অবস্থার পরও রাতে রোগীকে দেখতে আসেননি এবং প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সকালে স্বল্প সময়ের জন্য রোগী পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীর পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা বা ঝুঁকি মূল্যায়ন না করেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রোগীকে দীর্ঘ সময় স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হলেও তা গোপন রাখা হয় এবং দুপুরে হঠাৎ করে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জানানো হয়।

ডোরার স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সময়মতো আইসিইউ বা এইচডিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় মনিটরিং ও চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি রোগীর গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি, বিলম্ব এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ডা. ডোরার মৃত্যু হয়েছে। একজন চিকিৎসক নিজেই চিকিৎসা নিতে এসে এ ধরনের অবহেলার শিকার হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়, এ প্রশ্নও তোলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো : দায়ী চিকিৎসক ডা. রেহনুমা জাহানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসা লাইসেন্স বাতিল।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা আরও বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. ডোরার বাবা মানসুর উদ্দিন, স্বামী ডা. মো. নজরুল ইসলাম, চাচা শেখ নিজাম উদ্দিন সুইট, মামা ফিরোজ উদ্দিন, এস এম শামীম এজাজসহ পরিবারের সদস্যরা।