শ্রীকাইল-৫ কূপের উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
গ্যাসের চাহিদা নিজস্ব সম্পদ দিয়েই পূরণ করব
- আপডেট সময় : ০২:২৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে
শ্রীকাইল-৫ গ্যাস কূপের শুভ উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত -কপোতাক্ষ
কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে নতুন খননকৃত শ্রীকাইল-৫ গ্যাস কূপের শুভ উদ্বোধনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, আমরা নিজেদের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে চাই; যা আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে অতীব জরুরি।
আজ (শনিবার) এই গ্যাস কূপ উদ্বোধনকালে তিনি আরও বলেন, গ্যাসের চাহিদা আমরা নিজস্ব সম্পদ দিয়ে পূরণ করব। আমরা সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কর্তৃক নির্মিত এই কূপটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; যেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮০ লক্ষ ঘনফুট (৮ এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত হবে।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই খনন কাজ সম্পন্ন হয়। তবে নানা জটিলতায় এটি চালু করার উদ্যোগ থমকে ছিল।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে জনাব ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভ্যান্তরিণ জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের অগ্রগতির বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দেন। কেননা বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিকে ব্যয়বহুল আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভর করে যেতে হচ্ছিল। এতে করে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের খরচ বাড়ছে; অপরদিকে দেশীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। এসব কিছু বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার নির্দেশনা প্রদান করা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে।
শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের এই অতিরিক্ত সরবরাহ শিল্পকারখানা, সার কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উন্নয়ন কূপটি থেকে আগামী ১০ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কূপটিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য।
গত ১০ মার্চ থেকে কূপটি থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা শুরু হলেও শনিবার তা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শ্রীকাইল-৫ গ্যাস কূপ চালু হবার মধ্যে দিয়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৮ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।














