ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে ৮০ বিদেশি মেহমানসহ সাড়ে ১৬শ’ মুসুল্লি একসাথে বসেছেন ইতেকাফ

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

আশরাফুল মাদারিস মসজিদ জুড়ে সাড়ে ১৬শ’ মুসুল্লি একসাথে বসেছেন ইতেকাফে -কপোতাক্ষ

যশোরের একটি মসজিদে ৮০ বিদেশি মেহমানসহ সাড়ে ১৬শ’ মুসুল্লি একসাথে বসেছেন ইতেকাফে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা ঐতিহ্যবাহী আশরাফুল মাদারিস মসজিদে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদ জুড়ে যেন নেমে এসেছে এক আধ্যাত্মিক আবহ। বিশাল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় সতীঘাটা এলাকাতেও এখন এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে।

মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা হাসান ইমাম জানান, এ বছর ২০ রোজার রাত থেকে ১ হাজার ৬৬৪ জন মুসুল্লি ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পানামা, লন্ডন, ও সিঙ্গাপুরের মেহমান ৮০ জন, যারা রমজানের শুরু থেকেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন।

এছাড়া, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসুল্লি রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন।

তিনি আরও জানান, বিশাল সংখ্যক মুসল্লির আবাসন নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার চারতলা মসজিদটি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মুসুল্লির সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মসজিদের ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানেই ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন রয়েছেন মুসুল্লিরা।

মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা নাসিরুল্লাহ জানান, যশোরের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। তাদের ও ইতেকাফে বসা মুসুল্লিদের অর্থায়নেই ইতেকাফকারীদের সেহেরি ও ইফতারসহ খাবারের যাবতীয় আয়োজন করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশের ৬শ’ মুসুল্লিকে ইতেকাফের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয় ও ভিসা জটিলতার কারণে অধিকাংশ আমন্ত্রণকারী আসতে পারেননি। যেসব বিদেশি মেহমানরা ইতেকাফে বসেছেন তারা রমজানের শুরু থেকে মাদ্রাসায় আছেন। ইতেকাফ শেষে ঈদের নামাজের পর তারা বিদায় নেবেন।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ইতেকাফকারী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সকলে স্থানীয় সতীঘাটা ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন।

দেশি ও বিদেশি মুসুল্লিদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

তরিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছরই এখানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি মুসল্লি ইতেকাফে বসেন। এটা আমাদের এলাকার জন্য রহমতস্বরূপ।

প্রসঙ্গত, এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ছাত্র দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৫০ জন এতিম শিশু রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে ৮০ বিদেশি মেহমানসহ সাড়ে ১৬শ’ মুসুল্লি একসাথে বসেছেন ইতেকাফ

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

যশোরের একটি মসজিদে ৮০ বিদেশি মেহমানসহ সাড়ে ১৬শ’ মুসুল্লি একসাথে বসেছেন ইতেকাফে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা ঐতিহ্যবাহী আশরাফুল মাদারিস মসজিদে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদ জুড়ে যেন নেমে এসেছে এক আধ্যাত্মিক আবহ। বিশাল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় সতীঘাটা এলাকাতেও এখন এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে।

মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা হাসান ইমাম জানান, এ বছর ২০ রোজার রাত থেকে ১ হাজার ৬৬৪ জন মুসুল্লি ইতেকাফে অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পানামা, লন্ডন, ও সিঙ্গাপুরের মেহমান ৮০ জন, যারা রমজানের শুরু থেকেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছেন।

এছাড়া, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসুল্লি রয়েছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন।

তিনি আরও জানান, বিশাল সংখ্যক মুসল্লির আবাসন নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার চারতলা মসজিদটি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে মুসুল্লির সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মসজিদের ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানেই ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন রয়েছেন মুসুল্লিরা।

মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা নাসিরুল্লাহ জানান, যশোরের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এ মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। তাদের ও ইতেকাফে বসা মুসুল্লিদের অর্থায়নেই ইতেকাফকারীদের সেহেরি ও ইফতারসহ খাবারের যাবতীয় আয়োজন করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশের ৬শ’ মুসুল্লিকে ইতেকাফের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয় ও ভিসা জটিলতার কারণে অধিকাংশ আমন্ত্রণকারী আসতে পারেননি। যেসব বিদেশি মেহমানরা ইতেকাফে বসেছেন তারা রমজানের শুরু থেকে মাদ্রাসায় আছেন। ইতেকাফ শেষে ঈদের নামাজের পর তারা বিদায় নেবেন।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ইতেকাফকারী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সকলে স্থানীয় সতীঘাটা ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন।

দেশি ও বিদেশি মুসুল্লিদের এই বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

তরিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছরই এখানে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি মুসল্লি ইতেকাফে বসেন। এটা আমাদের এলাকার জন্য রহমতস্বরূপ।

প্রসঙ্গত, এ মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ছাত্র দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৫০ জন এতিম শিশু রয়েছে।