যশোরের তিনটি আদালত বর্জন আইনজীবীদের
- আপডেট সময় : ০২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
যশোরের তিনটি আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকের সাথে আইনজীবীদের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আজ (বুধবার) জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনজীবীরা জানান, বিচারপ্রার্থীকে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের পক্ষে সম্ভব নয়। তার হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা না থাকায় তিনি পূর্ণাঙ্গ আইনি সেবা দিতে পারেন না। এতে করে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সেবা প্রত্যাশীদের ওপর। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আচরণ খারাপ। এনিয়ে তার প্রতি অনাস্থা আনা হলে আরও খারাপ আচরণ করা শুরু করেছেন। তাই আইনজীবীরা কোনোভাবেই আর তার এজলাসে অংশ নেবেন না।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, বুধবার থেকেই তার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) আদালতও একইসঙ্গে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতও বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, কাজী ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু, সিনিয়র আইনজীবী জাফর সাদিক, মঈনুল হক খান ময়না এবং সাবেক জিপি সোহেল শামীম।
সভায় বক্তারা দাবি করেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের ওপর তাদের ক্ষোভ নেই। তবে তিনি আইন-কানুন জানেন না এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অযোগ্য। তিনি অন্যায় ও নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। এসব বিষয়ে সমিতিতে অভিযোগ দেন আইনজীবীরা। এমনকি অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে বৈঠক করা হয়েছিল। পরে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু এরপর তিনি আরও খারাপ আচরণ করা শুরু করেছেন বলে আইনজীবীরা জানান। শেষমেষ বুধবার জরুরি সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি আদলত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যশোরের সিনিয়র আইনজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক বিচারক। যার ফলে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ বেশ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় বদলি হন। এরপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
















