ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরের বকেয়া পরিশোধ, বাকি বেতন চলতি মাসেই

যশোরে চালডালের আন্দোলনরত কর্মীদের সাথে সমঝোতা

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ‘চালডাল’র অফিস অবস্থিত -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কর্মরত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘চালডাল’র ৮০০ কর্মীর বকেয়া বেতন নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার আপাতত অবসান হয়েছে। আন্দোলনরত কর্মীদের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, মঙ্গলবার গত ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করা হয়েছে। বাকি বকেয়া বেতনও চলতি মার্চের মধ্যেই পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকায় সোমবার থেকে চালডাল ইউনিটের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ৮০০ কর্মীর এই বিশাল বহর তাদের বকেয়া পাওনার দাবিতে সোচ্চার হলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে চালডাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে পার্কের অভ্যন্তরে কর্মী প্রতিনিধি এবং চালডালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে একটি বেতন পরিশোধের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়।

আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মীদের বকেয়া বেতন তিনটি ধাপে পরিশোধের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে : ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের বকেয়া বেতন ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যেই পরিশোধ সম্পন্ন করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৬-এর বেতন আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রদান করা হবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর বেতন আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর আন্দোলনরত কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র আরও জানায়, যশোর সফটওয়্যার পার্কের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালডালে প্রায় ৮০০ তরুণ-তরুণী কর্মরত আছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

অনেক কর্মী জানান, মেস ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া এবং পরিবারের খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছিলেন। আজকের এই সমাধানের ফলে তাদের সেই অনিশ্চয়তা দূর হলো।

চালডালের পক্ষ থেকে উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জিকো জানান, কারিগরি এবং অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার কারণে বেতন প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের সমস্যা সমাধান করেছি। কর্মীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন আজই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই মাসের বেতনও নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। আমরা আমাদের কর্মীদের কর্মস্পৃহা ও ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

চালডাল কর্মী প্রিন্স মাহমুদ জানান, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেওয়ায় তারা কাজে ফিরেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিসেম্বরের বকেয়া পরিশোধ, বাকি বেতন চলতি মাসেই

যশোরে চালডালের আন্দোলনরত কর্মীদের সাথে সমঝোতা

আপডেট সময় : ০২:২৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কর্মরত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘চালডাল’র ৮০০ কর্মীর বকেয়া বেতন নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার আপাতত অবসান হয়েছে। আন্দোলনরত কর্মীদের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, মঙ্গলবার গত ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করা হয়েছে। বাকি বকেয়া বেতনও চলতি মার্চের মধ্যেই পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকায় সোমবার থেকে চালডাল ইউনিটের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ৮০০ কর্মীর এই বিশাল বহর তাদের বকেয়া পাওনার দাবিতে সোচ্চার হলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে চালডাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে পার্কের অভ্যন্তরে কর্মী প্রতিনিধি এবং চালডালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে একটি বেতন পরিশোধের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়।

আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মীদের বকেয়া বেতন তিনটি ধাপে পরিশোধের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে : ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের বকেয়া বেতন ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যেই পরিশোধ সম্পন্ন করা হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৬-এর বেতন আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রদান করা হবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর বেতন আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর আন্দোলনরত কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র আরও জানায়, যশোর সফটওয়্যার পার্কের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালডালে প্রায় ৮০০ তরুণ-তরুণী কর্মরত আছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

অনেক কর্মী জানান, মেস ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া এবং পরিবারের খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছিলেন। আজকের এই সমাধানের ফলে তাদের সেই অনিশ্চয়তা দূর হলো।

চালডালের পক্ষ থেকে উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জিকো জানান, কারিগরি এবং অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতার কারণে বেতন প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের সমস্যা সমাধান করেছি। কর্মীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন আজই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই মাসের বেতনও নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। আমরা আমাদের কর্মীদের কর্মস্পৃহা ও ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

চালডাল কর্মী প্রিন্স মাহমুদ জানান, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেওয়ায় তারা কাজে ফিরেছেন।