ইফাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা
সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলাভাষা চালুর আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৫:২১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যশোর বোর্ড স্কুলের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন -কপোতাক্ষ
মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলাভাষার চর্চা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, ‘একুশ মানে মাথা নত না করার অঙ্গীকার, একুশ মানে আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার শপথ।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আজ (বুধবার) অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি এমএম কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও যশোর বোর্ড স্কুলের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মার প্রকাশ। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে বাংলাভাষাকে সমৃদ্ধ করতে গবেষণা, অনুবাদ ও সৃজনশীল লেখালেখিতে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, তাই আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
বিশেষ অতিথি ফকির আকতারুল আলম বলেন, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানে দেশের প্রতি ভালোবাসা। একুশের চেতনা আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, পরিবার থেকেই শুদ্ধ ভাষা চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি ও সংস্কৃতিমনা পরিবেশ তৈরি করতে পারলে ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সহজ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিল্লাল বিন কাশেম বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা স্বাধীনভাবে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সব জায়গায় শুদ্ধ বাংলাভাষার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। ভাষার অপব্যবহার ও অযথা বিদেশি শব্দের আধিক্য রোধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মঈনুদ্দিন। তিনি ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মহান আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধীজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে শুদ্ধ বাংলাভাষার প্রয়োগের মাধ্যমে একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে।















