ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঘারপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে

বাঘারপাড়া পৌর শহরের চৌরাস্তায় ১৪৪ ধারার মধ্যে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ -কপোতাক্ষ

যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনার অনুসারীদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশের স্থলে পাল্টা সমাবেশ ডাকে আরেক অংশ। আজ (মঙ্গলবার) পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। সংঘাত এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা বিধিনিষেধে কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখনও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার পরও মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

নেতাকর্মীরা জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপিংয়ে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ও অন্যটি পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান টিএস আইয়ুব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বাতিল করলে; দল মনোনয়ন পরিবর্তন করে দেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার ফরাজীকে। যদিও বিএনপির এই প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

আইয়ুব পক্ষের ভাষ্য, টিএস আইয়ুবকে ঋণখেলাপিতে মনোনয়ন বাতিল করতে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল (সোমবার) দুপুরে আইয়ুবের অনুসারীরা ঝাড়ু মিছিল করে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানান।

এই ঝাড়ু মিছিলের প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে পৌর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন আব্দুল হাই মনার অনুসারীরা। এই অনুসারীর কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়লে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেন টিএস আইয়ুবের অনুসারীরা। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, বাঘারপাড়া পৌরসভার স্বর্ণপট্রি মোড় থেকে চৌরাস্তাসহ তৎসংলগ্ন এলাকা এবং উপজেলা মোড় ও এর আশপাশে সবধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ জারির পর মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয় ব্যাপক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বাজারের অধিকাংশ দোকানও বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা টি এস আইয়ুবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার অনুসারী হিসাবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, ‘আমি অসুস্থ; সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও আমি যাইনি। টিএস আইয়ুব মনোনয়ন পেলেও সেটি বাতিল করতে ষড়যন্ত্র করে সোহাগ। তার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি করায় সেটি হয়নি।’

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে টিএস আইয়ুব কিছু লোক ডেকে শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এতে আমাদের নেতাদের মানহানি হয়েছে। তার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে সংঘর্ষ হতে পারে বলে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।’ দলে বিভেদ সৃষ্টি করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে একটি পক্ষ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘বাজারে একই স্থানে দুটি পক্ষ সমাবেশ ডাকে। এ কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর সদরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

এদিকে নিজেদের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্বে আসনটি হারিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বিভেদের কর্মসূচি ঘিরে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। দুইপক্ষের কর্মকান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা করছেন নেটিজনেরা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সবাইকে সংযত হতে হবে। কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে জেলা বা দায়িত্বশীল নেতাদের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিভেদ সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মসূচি যারা করছে; তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘারপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনার অনুসারীদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশের স্থলে পাল্টা সমাবেশ ডাকে আরেক অংশ। আজ (মঙ্গলবার) পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। সংঘাত এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা বিধিনিষেধে কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখনও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যার পরও মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

নেতাকর্মীরা জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপিংয়ে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ও অন্যটি পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পান টিএস আইয়ুব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়ন বাতিল করলে; দল মনোনয়ন পরিবর্তন করে দেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার ফরাজীকে। যদিও বিএনপির এই প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

আইয়ুব পক্ষের ভাষ্য, টিএস আইয়ুবকে ঋণখেলাপিতে মনোনয়ন বাতিল করতে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল (সোমবার) দুপুরে আইয়ুবের অনুসারীরা ঝাড়ু মিছিল করে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বহিষ্কারের দাবি জানান।

এই ঝাড়ু মিছিলের প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে পৌর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন আব্দুল হাই মনার অনুসারীরা। এই অনুসারীর কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়লে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেন টিএস আইয়ুবের অনুসারীরা। উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, বাঘারপাড়া পৌরসভার স্বর্ণপট্রি মোড় থেকে চৌরাস্তাসহ তৎসংলগ্ন এলাকা এবং উপজেলা মোড় ও এর আশপাশে সবধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ জারির পর মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয় ব্যাপক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বাজারের অধিকাংশ দোকানও বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা টি এস আইয়ুবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার অনুসারী হিসাবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, ‘আমি অসুস্থ; সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও আমি যাইনি। টিএস আইয়ুব মনোনয়ন পেলেও সেটি বাতিল করতে ষড়যন্ত্র করে সোহাগ। তার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি করায় সেটি হয়নি।’

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে টিএস আইয়ুব কিছু লোক ডেকে শহরে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এতে আমাদের নেতাদের মানহানি হয়েছে। তার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। এতে সংঘর্ষ হতে পারে বলে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।’ দলে বিভেদ সৃষ্টি করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে একটি পক্ষ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘বাজারে একই স্থানে দুটি পক্ষ সমাবেশ ডাকে। এ কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর সদরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

এদিকে নিজেদের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্বে আসনটি হারিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বিভেদের কর্মসূচি ঘিরে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। দুইপক্ষের কর্মকান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা করছেন নেটিজনেরা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সবাইকে সংযত হতে হবে। কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকলে জেলা বা দায়িত্বশীল নেতাদের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিভেদ সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মসূচি যারা করছে; তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’