ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত প্রতিমন্ত্রী অমিত

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজ জেলা যশোরে ফিরে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত হন -কপোতাক্ষ

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজ জেলা যশোরে ফিরে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। আজ (শুক্রবার) যশোর সার্কিট হাউজে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে পৌঁছান। যশোর বিমান বন্দর থেকে সার্কিট হাউজে উপস্থিত হলে প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রথমবারের মতো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হয়ে দুই দিনের সরকারি সফরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে সার্কিট হাউজ এলাকায় ফুল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের। যশোর শহর ছাড়াও জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে দলে দলে সার্কিট হাউজে আসতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই দুই দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার পৃথকভাবে জেলার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা এবং ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

আগামীকাল (শনিবার) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় যোগদান, দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় পরে বিকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে যোগদান করবেন।

প্রসঙ্গত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামও চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাবার পথ ধরে এবারই মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন অমিত। পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় যশোর জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন অমিত। ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

পিতার মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখেন। গত ১৭ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন। এরপর তৎকালীন সরকার তার উপর ব্যাপক নিপীড়ন চালান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পান। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে অমিত বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

নতুন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এই গুরুদায়িত্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে যেমন আরও শানিত করবে, তেমনি যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের গতি পাবে এবং মানুষের কল্যাণ হবে। তারা এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত প্রতিমন্ত্রী অমিত

আপডেট সময় : ০২:৫১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজ জেলা যশোরে ফিরে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আবেগঘন ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। আজ (শুক্রবার) যশোর সার্কিট হাউজে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে পৌঁছান। যশোর বিমান বন্দর থেকে সার্কিট হাউজে উপস্থিত হলে প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রথমবারের মতো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হয়ে দুই দিনের সরকারি সফরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে সার্কিট হাউজ এলাকায় ফুল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের। যশোর শহর ছাড়াও জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ ফুলের তোড়া ও মালা নিয়ে দলে দলে সার্কিট হাউজে আসতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই দুই দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার পৃথকভাবে জেলার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা এবং ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

আগামীকাল (শনিবার) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় যোগদান, দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় পরে বিকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে যোগদান করবেন।

প্রসঙ্গত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামও চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাবার পথ ধরে এবারই মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন অমিত। পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় যশোর জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন অমিত। ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

পিতার মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখেন। গত ১৭ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন। এরপর তৎকালীন সরকার তার উপর ব্যাপক নিপীড়ন চালান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পান। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে অমিত বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

নতুন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এই গুরুদায়িত্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে যেমন আরও শানিত করবে, তেমনি যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের গতি পাবে এবং মানুষের কল্যাণ হবে। তারা এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।