যশোরে আনন্দ মিছিল মিষ্টি বিতরণ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী হলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- আপডেট সময় : ০১:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় তার নিজ জেলা যশোর আনন্দে ভাসছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরের পরে এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই নেতাকর্মীরা জড়ো হন শহরের লালদীঘি পাড়ের দলীয় কার্যালয় চত্বরে। সেখানে নেতাকর্মীরা শ্লোগানের সঙ্গে একে অপরকে রঙ দিয়ে রাঙিয়ে তোলেন। পাশাপাশি একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করান এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।
বিকেল ৫টার দিকে জেলা বিএনপির ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে দড়াটনা, মুজিব সড়ক, জজ কোর্ট মোড় ও মাইকপট্টি হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা নতুন প্রতিমন্ত্রীর নামে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। নতুন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এই গুরুদায়িত্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে যেমন আরও শানিত করবে, তেমনি যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের গতি পাবে এবং মানুষের কল্যাণ হবে। তারা এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামও একাধিক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার পথ ধরেই এবার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন অমিত। তার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় যশোর জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। পিতার মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে অমিত ভূমিকা রাখেন। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তার উপর ব্যাপক নিপীড়ন চালায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট পান।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র। অনিন্দ্য ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে ১৯৯৬ সালে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি টিভি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম ল্যাবস্কান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি যশোর মেডিসিন ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, প্রেস ক্লাব যশোর, যশোর চেম্বার অব কমার্স, যশোর ক্লাব, ঝিনাইদহ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বায়োকেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি বেশকিছু সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

















