শতকোটি টাকার ক্ষতি
বসন্তের হাসি নয়, আষাঢ়ের মেঘ গদখালির ফুলচাষিদের মুখে
- আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস এবং ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী দিন। দিবস দুটি ঘিরে ফুলের বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকার কথা ছিল ফুলের রাজধানীখ্যাত গদখালির ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের। কিন্তু নির্বাচনের কারণে বাজার বন্ধ থাকায় সে অবস্থা নেই গদখালিতে। ফলে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফুলচাষিরা। কাক্সিক্ষত সময়ে ফুল বিক্রি না করতে পেয়ে ফুলচাষিদের মুখে বসন্তের হাসির বদলে যেন আষাঢ়ের মেঘ জমেছে।
ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী-পানিসারার চাষিরা বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দামের আশায় ফুল চাষ করেন। কিন্তু এ বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে বাজার-ঘাট বন্ধ থাকায় ফুল বিক্রি করতে পারেননি বলেই জানিয়েছেন ফুলচাষিরা। প্রতিদিন ভোরে এই ফুলের হাট বসে গদখালীতে। গদখালী-পানিসারা অঞ্চলে যে ফুল উৎপাদিত হয় তা সাধারণত রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫-৪০ শতাংশ। বাকি ফুল অন্যান্য জেলা শহর এবং স্থানীয় পানিসারা-হাড়িয়া ফুল মোড়ে বিক্রি হয়।

সরেজমিনে শুক্রবার ফুলের রাজধানীখ্যাত গদখালী এলাকায় দেখা গেছে, গদখালীর অদূরে হাড়িয়া, সৈয়দপাড়া, পটুয়াপাড়া ও ফুলকানন পানিসারা মাঠে ফুল তারার মতো ফুটে রয়েছে। বিশেষ করে রজনীগন্ধা, গ্লাডিউলাস, জারবেরা ও গোলাপের খেতে ফুল ফুটে রয়েছে। নির্বাচনের কারণে বাজার ও পরিবহন সীমিত চলাচলে চাষিরা রজনীগন্ধা, গ্লাডিউলাস ফোটা ফুল উঠাতে পারেননি। তবে দু-একজন চাষি গোলাপ উঠিয়ে কোল্ডস্টোরেজে রাখলেও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি গোলাপ ফুলের চাহিদা থাকে। তাই দামও সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি পান। কিন্তু এবছর তা আর হলো না।
পানিসারা মাঠে কথা হয় ফুলচাষি মো. সাইফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এ বছর আমার দুই বিঘা জমিতে জারবেরার শেডে প্রায় সাত হাজার ফুল কাটার মতো রয়েছে। বাজার বন্ধ থাকায় এসব ফুল বিক্রি করতে পারেননি। যার দাম অন্তত লাখ টাকা। তাছাড়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদাসহ অন্যান্য ফুলের চাষও রয়েছে। শুক্রবার) গদখালী বাজারে অল্প কিছু ফুল নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু একদম দাম পাইনি। ভোটে বাজার বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

পটুয়াপাড়া গ্রামের শাহ জামাল বলেন, গোলাপ ফুল একদিন পরপর উঠাতে হয়। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সবচেয়ে বেশি দামে গোলাপ বিক্রি করা যায়, কিন্তু এবছর তা হলো না ভোটের কারণে।
হাড়িয়া গ্রামের এরশাদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে বাজার বন্ধ থাকায় ফুল তুলতে না পেরে গাঁদা ফুল গরু দিয়ে খাওয়ায়ে দিয়েছি।
গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মো. মনজুর আলম বলেন, মৌসুম শুরুতে ফুলচাষিরা ভালো দাম পাচ্ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে কয়েকদিন বেচাকেনা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাছাড়া পানিসারা-হাড়িয়া ফুল মোড় বন্ধের কারণে প্রতিদিন অনেক টাকা লোকসান হচ্ছে মোড়ের ব্যবসায়ীদের।
যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, এবারের ঋতুরাজ বসন্ত আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শত কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের কারণে ফুলের বাজার ও পরিবহন বন্ধ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। সাধারণত ফেব্রুয়ারির সাত তারিখ থেকে এসব দিবসের ফুল বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ৯ তারিখ থেকে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে প্রশাসনের নির্দেশে ফুলের বাজার বন্ধ হওয়ায় মাত্র তিন দিন চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পেরেছেন। সেক্ষেত্রে সব মিলিয়ে হয়তো কয়েক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে পানিসারা-হাড়িয়া ফুল মোড়ও বন্ধ করে দেয়। এতে করে বেচাকেনা না করতে পেরে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ঝিকরগাছার গদখালী অঞ্চলে ৮০০ হেক্টর জমিতে ১১ ধরনের ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এই এলাকার ছয় হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর সাড়ে তিন-চার শ’ কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হয়।

















