ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরের পাঁচ আসনে জামায়াতের বাজিমাত

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

যশোরের ছয় আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা : শার্শা আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান, ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, সদর আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাঘারপাড়া-অভয়নগর আসনে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল, মণিরামপুর আসনে গাজী এনামুল হক ও কেশবপুর আসনে অধ্যাপক মোক্তার আলী -কপোতাক্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জামায়াত ম্যাজিকে ধরাশায়ী হয়েছে বিএনপি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরে জামায়াতের এমন জয়লাভ রীতিমতো চমকের। দেশের পুরাতন ১৯টি জেলার মধ্যে কোনো জেলাতেই জামায়তের এমন চমক দেখা যায়নি। অবশ্য সীমান্ত জেলা যশোরের দুটি বাদে অপর চারটি আসনে জামায়াতের দাপট আগেও দেখা দেখা গেছে। কিন্তু একসাথে ৫টি আসন জয়ের মতো বাজিমাত কখনোই হয়নি।

৫টির বাইরে শুধুমাত্র সদর (যশোর-৩) আসন থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপি খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জামায়াতের বিজয়ীরা হলেন : যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে অধ্যাপক মোক্তার আলী।

বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। ফলে ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে মাওলানা আজিজুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। দুই উপজেলার ১৭৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ লাখ ৯৩১ ভোট। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ২৩ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

যশোরের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ১৯০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার নয়শ ১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের পেয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ ভোট। অমিতের জয়ের ব্যবধান ১৪ হাজার ৭৫৫ ভোট।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল। নির্বাচনের ফলাফলে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৪ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল ৪৭ হাজার ৯৩৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেনকে (কলস প্রতীক) পরাজিত করেন। ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫১৬ ভোট। এছাড়া ১৮ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক মোক্তার আলী মোট ৯১ হাজার ৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৫৯ ভোট। এতে ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী ঘোষিত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরের পাঁচ আসনে জামায়াতের বাজিমাত

আপডেট সময় : ০৫:০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জামায়াত ম্যাজিকে ধরাশায়ী হয়েছে বিএনপি। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরে জামায়াতের এমন জয়লাভ রীতিমতো চমকের। দেশের পুরাতন ১৯টি জেলার মধ্যে কোনো জেলাতেই জামায়তের এমন চমক দেখা যায়নি। অবশ্য সীমান্ত জেলা যশোরের দুটি বাদে অপর চারটি আসনে জামায়াতের দাপট আগেও দেখা দেখা গেছে। কিন্তু একসাথে ৫টি আসন জয়ের মতো বাজিমাত কখনোই হয়নি।

৫টির বাইরে শুধুমাত্র সদর (যশোর-৩) আসন থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপি খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জামায়াতের বিজয়ীরা হলেন : যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে অধ্যাপক মোক্তার আলী।

বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। ফলে ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে মাওলানা আজিজুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। দুই উপজেলার ১৭৫টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ লাখ ৯৩১ ভোট। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ২৩ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

যশোরের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ১৯০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন দুই লাখ এক হাজার নয়শ ১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল কাদের পেয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ ভোট। অমিতের জয়ের ব্যবধান ১৪ হাজার ৭৫৫ ভোট।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল। নির্বাচনের ফলাফলে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৪ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল ৪৭ হাজার ৯৩৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেনকে (কলস প্রতীক) পরাজিত করেন। ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫১৬ ভোট। এছাড়া ১৮ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যাপক মোক্তার আলী মোট ৯১ হাজার ৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৫৯ ভোট। এতে ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে অধ্যাপক মোক্তার আলী বিজয়ী ঘোষিত হন।