তেইশ বছর জামায়াতের কর্মী দাবি করে ভোট চাইলেন ধানের শীষে!
- আপডেট সময় : ০১:০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৮১ বার পড়া হয়েছে
যশোরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভায় তেইশ বছর জামায়াতের কর্মী দাবি করে আনসার আলী নামে এক ব্যক্তি ভোট চাইলেন ধানের শীষে। যশোর সদরের নরেন্দ্রপুরে যশোর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান।
রোববার অনুষ্ঠিত এই পথসভার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে এলাকায় চলছে নানান আলোচনা। তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, আনসার সুবিধাবাদী, তিনি কখনো জামায়াতের কর্মী ছিলেন না।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আনসার আলীকে বলতে শোনা যায়, জামায়াতের কর্মী হওয়ায় আটটি মামলা হয়েছে তার নামে। জেলে থেকেছেন ছয়মাস। জেলখানাতেই অমিতের সাথে তার পরিচয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার খোঁজ না নিলেও অমিত তার খোঁজ নিয়েছেন সবসময়।
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম ধর্মের কথা শুনিয়ে প্রতারণা করছে ভোটারদের সাথে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যেখানে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রতিমা ভেঙ্গেছেন, সেখানে জামায়াত নেতারা পাহারা দিয়েছেন। প্রতিমা পাহারা দেওয়াটা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, শুধুমাত্র ভোটের নেশায় তারা এসব করেছে।’
এসময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বেহেশত ও দোযখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তার মালিকানা কোনো বান্দার হাতে নাই। যে বেহেশত ও দোযখের টিকিট দিতে চায় সে নিপাট একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। যারা মুনাফেকি করবেন, যারা রাতকে দিন ও দিনকে রাত করবেন তাদের কথায় মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত হবে না। এসময় তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে যশোরকে স্বপ্নের যশোর হিসাবে গড়ে তুলবেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আনসার আলী সুবিধাবাদী লোক। তার এক ভাইপো আমাদের কর্মী। কিন্তু সে কখনও জামায়াত করেনি। কখনও আমাদের প্রোগ্রাম কিংবা কর্মীসভায় দেখিনি। তিনি বিগত আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাজুর লোক ছিলেন।’
আর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সালাম বিশ্বাস বলেন, ‘আনসার আলী পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। বিএনপির প্রোগ্রামে এসেছে তার আদর্শিক ও মনের ব্যাপার। অমিতের রাজনীতির শিষ্টাচার দেখে তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
জামায়াত নেতারা তাদের কর্মী হিসাবে অস্বীকার করছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে; এইজন্য তারা স্বীকার করছে না। তিনি এলাকায় জামায়াতের নেতা ও তার পরিবারের অনেক সদস্যও জামায়াত করে।










