ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হলফনামা বিশ্লেষণ : যশোর-৫ (মণিরামপুর)

মামলা ও সম্পদে পিছিয়ে বিএনপির রশিদ, এগিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শহীদ ইকবাল, আয় বেশি জামায়াতের এনামুলের

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন, বিএনপি মনোনীত জোটের শরীক দলের নেতা রশিদ আহমাদ, জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হক -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির বিদ্রোহী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। আর দল (বিএনপি) মনোনয়ন দিয়েছে জোটের শরীক দলের নেতা রশিদ আহমাদকে। সম্পদ ও মামলা, দু’টিতেই রশিদ আহমাদের চেয়ে এগিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শহীদ ইকবাল হোসেন। তবে শহীদ ইকবালের চেয়ে মামলা কম থাকলেও আয় বেশি জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে রশিদ আহমাদকে। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। জোটের শরিক হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে তার দলের নিবন্ধন না থাকায় লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে। এই আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। আর এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন গাজী এনামুল হক।

শহীদ ইকবাল হোসেন
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নেতা শহীদ ইকবাল হোসেন হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার নামে বিভিন্ন সময়ে ৩৮টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকি ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি, খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮ হাজার ৪শ’ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৮ হাজার ৪শ’ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৯০ হাজার টাকা ও ব্যবসায় তিন লাখ টাকা ও আইন পরামর্শে আয় এক লাখ টাকা।

তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৪ টাকা। এরমধ্যে চার লাখ ৪২ হাজার ৬২৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ১০ লাখ টাকা, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য, দুই লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র।

শহিদ ইকবাল হোসেনের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। ৫২ শতক পৈত্রিক কৃষি জমি, এক লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকার ভবন। পৈত্রিক বাড়ির তথ্য উল্লেখ করলেও দাম নেই। উপহার হিসেবে পাওয়া ৩৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে তার। আর শহিদ ইকবাল হোসেনের স্ত্রী মেরি ইকবাল পেশায় গৃহিণী। তার বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৫ হাজার ও বাড়ি ভাড়া ৩০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এরমধ্যে দুই লাখ টাকা নগদ, ব্যাংকে জমা ১৫ হাজার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ২৪ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮৫ টাকা। এরমধ্যে পৈত্রিক কৃষি জমি ৫২ শতক, তিন লাখ টাকা মূল্যের তিন দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, তিন লাখ টাকা মূল্যের টিনশেডের দোকান।

বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশিদ আহমাদের স্নাতকোত্তর পাস। তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ৪০ হাজার টাকা ও শিক্ষকতায় তিন লাখ টাকা আয়। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকা। এরমধ্যে নগদ টাকা সাত লাখ ১২ হাজার ৫১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬৬ হাজার ৩০৬ টাকা। ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র ও পাঁচ ভরি উপহার পাওয়া স্বর্ণ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৈত্রিক ১০২ দশমিক ৮০৫ শতক কৃষি জমি, পৈত্রিক ও দানসূত্রে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতক অকৃষি জমি, পৈত্রিক ১৬শ’ বর্গফুটের একতলা একটি ভবন। রশিদ আহমাদের নামে একটি মামলা থাকলেও সেটিতে ২০২৫ সালে খালাস পেয়েছেন। রশিদ আহমাদের স্ত্রী মো. রহিমা খাতুনের পেশা শিক্ষকতা উল্লেখ করলেও তার বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ নেই হলফনামায়।

জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক
পেশায় আইনজীবী গাজী এনামুল হকের নামে ১৯টি মামলা দায়ের হয়। এরমধ্যে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন। আইন পেশায় তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫শ’ টাকা। এরমধ্যে নগদ ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। তার উত্তরাধিকার সম্পত্তির মূল্য অজানা উল্লেখ করলেও সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তার স্থাবর সম্পত্তির ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৭ টাকা মূল্যের জমিসহ একতলা ভবন।

গাজী এনামুল হকের স্ত্রী সামছুন নাহার গৃহিণী। তার আয় উৎস উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার অস্থাবর সম্পদ নগদ ১৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও স্থাবর সম্পদ ২৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৪ টাকা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হলফনামা বিশ্লেষণ : যশোর-৫ (মণিরামপুর)

মামলা ও সম্পদে পিছিয়ে বিএনপির রশিদ, এগিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শহীদ ইকবাল, আয় বেশি জামায়াতের এনামুলের

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির বিদ্রোহী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। আর দল (বিএনপি) মনোনয়ন দিয়েছে জোটের শরীক দলের নেতা রশিদ আহমাদকে। সম্পদ ও মামলা, দু’টিতেই রশিদ আহমাদের চেয়ে এগিয়ে ‘বিদ্রোহী’ শহীদ ইকবাল হোসেন। তবে শহীদ ইকবালের চেয়ে মামলা কম থাকলেও আয় বেশি জামায়াত প্রার্থী গাজী এনামুল হকের। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে রশিদ আহমাদকে। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। জোটের শরিক হিসেবে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে তার দলের নিবন্ধন না থাকায় লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে। এই আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। আর এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন গাজী এনামুল হক।

শহীদ ইকবাল হোসেন
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নেতা শহীদ ইকবাল হোসেন হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তার নামে বিভিন্ন সময়ে ৩৮টি মামলা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকি ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি, খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮ হাজার ৪শ’ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৮ হাজার ৪শ’ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৯০ হাজার টাকা ও ব্যবসায় তিন লাখ টাকা ও আইন পরামর্শে আয় এক লাখ টাকা।

তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৪ টাকা। এরমধ্যে চার লাখ ৪২ হাজার ৬২৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ১০ লাখ টাকা, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য, দুই লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র।

শহিদ ইকবাল হোসেনের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। ৫২ শতক পৈত্রিক কৃষি জমি, এক লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকার ভবন। পৈত্রিক বাড়ির তথ্য উল্লেখ করলেও দাম নেই। উপহার হিসেবে পাওয়া ৩৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে তার। আর শহিদ ইকবাল হোসেনের স্ত্রী মেরি ইকবাল পেশায় গৃহিণী। তার বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ১৫ হাজার ও বাড়ি ভাড়া ৩০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এরমধ্যে দুই লাখ টাকা নগদ, ব্যাংকে জমা ১৫ হাজার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ২৪ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন। স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮৫ টাকা। এরমধ্যে পৈত্রিক কৃষি জমি ৫২ শতক, তিন লাখ টাকা মূল্যের তিন দশমিক ৫০ শতক অকৃষি জমি, তিন লাখ টাকা মূল্যের টিনশেডের দোকান।

বিএনপির প্রার্থী রশিদ আহমাদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশিদ আহমাদের স্নাতকোত্তর পাস। তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ৪০ হাজার টাকা ও শিক্ষকতায় তিন লাখ টাকা আয়। তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকা। এরমধ্যে নগদ টাকা সাত লাখ ১২ হাজার ৫১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬৬ হাজার ৩০৬ টাকা। ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র ও পাঁচ ভরি উপহার পাওয়া স্বর্ণ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৈত্রিক ১০২ দশমিক ৮০৫ শতক কৃষি জমি, পৈত্রিক ও দানসূত্রে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতক অকৃষি জমি, পৈত্রিক ১৬শ’ বর্গফুটের একতলা একটি ভবন। রশিদ আহমাদের নামে একটি মামলা থাকলেও সেটিতে ২০২৫ সালে খালাস পেয়েছেন। রশিদ আহমাদের স্ত্রী মো. রহিমা খাতুনের পেশা শিক্ষকতা উল্লেখ করলেও তার বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ নেই হলফনামায়।

জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক
পেশায় আইনজীবী গাজী এনামুল হকের নামে ১৯টি মামলা দায়ের হয়। এরমধ্যে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন। আইন পেশায় তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ লাখ ২৬ হাজার ৫শ’ টাকা। এরমধ্যে নগদ ৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। তার উত্তরাধিকার সম্পত্তির মূল্য অজানা উল্লেখ করলেও সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তার স্থাবর সম্পত্তির ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৭ টাকা মূল্যের জমিসহ একতলা ভবন।

গাজী এনামুল হকের স্ত্রী সামছুন নাহার গৃহিণী। তার আয় উৎস উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার অস্থাবর সম্পদ নগদ ১৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও স্থাবর সম্পদ ২৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৪ টাকা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।