ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হলফনামা বিশ্লেষণ : যশোর-৩ (সদর)

আয় বেশি বিএনপির অমিতের, সম্পদে এগিয়ে জামায়াতের কাদের

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবারই যশোর জেলার প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সদর আসন। পুরো জেলার রাজনীতি তথা সাংগঠনিক কার্যক্রমে জেলা শহরের ফোকাসই পড়ে অন্যান্য উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত। আর এবারের নির্বাচনে বিএনপি সরকারের একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর ব্যতিক্রমী লড়াইকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনোযোগও বিশেষরকমের কৌতুহলোদ্দীপক।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাবেকমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নার্গিস ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদের এর আগে যশোরে কোনো সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে আশির দশকের শুরুতে শিবির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন। সেই হিসেবে ভিপি কাদের নামে তার পরিচিতি রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মোকাবেলা করেছেন বা লড়ছেন ৫৩টি মামলায়। জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদেরের নামে কোনো মামলা নেই। পেশায় দুই প্রার্থীই ব্যবসায়ী। নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির অমিতের আয় বেশি হলেও সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের কাদের। ২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক আবদুল কাদের। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ টাকা। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর-অবস্থাবর সম্পদ প্রায় ১২ কোটি টাকার। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৩ লাখ টাকা।

৫৩ রাজনৈতিক মামলা অমিতের
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (৫০) পেশায় ব্যবসায়ী। এমএসসি, এমবিএ পাস অমিত নির্বাচনী হলফনামায় ৫৩টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে চলমান রয়েছে ৭টি মামলা, খালাস পেয়েছেন ১২টি। অব্যাহতি পেয়েছেন ১৯টিতে। ১২টি মামলায় অব্যাহতির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত। তিনটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট নামঞ্জুর। সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক।

অমিতের বার্ষিক আয় ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২শ’ টাকা, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২২৫ টাকা, ব্যবসায় এক লাখ এক হাজার ৭২৮ টাকা, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪৪ টাকা, অন্যান্য উৎস থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের অস্থাবর সম্পদ ১১ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে নগদ ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫১১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দুই কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ টাকা, শেয়ার, বন্ড এক কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯ টাকা। ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজের অংশীদার কারবারে মূলধন বিনিয়োগ ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ টাকা, সঞ্চয়পত্র স্থায়ী আমানত তিন কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ টাকা। ডিপিএস দুই কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ৯১১ টাকা। বীমা ও ট্রাস্টের মূল্য ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার। অন্যান্য ৬৩ লাখ টাকা। ৯০ ভরি স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর গহনা উপহার পেয়েছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর সম্পদ এক কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার ৮০৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৮ টাকার কৃষি জমি। সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জমিসহ বাড়ি, ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিন দশমিক ৮২ শতক জমি, ঢাকার মগবাজারে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের শূণ্য দশমিক ০৯ একর জমি, যশোরের বালিয়াডাঙ্গায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সাত শতক জমি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দোকান ভাড়ার অগ্রিম, জরুরি প্রয়োজনে দায়-দেনা চার কোটি ৫৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্ত্রী সোহানা পারভীনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। তার বার্ষিক আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তার মোট অস্থাবর সম্পদ তিন কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮ টাকা। এর মধ্যে তার নগদ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭১ টাকা। সঞ্চয়পত্র আমানত এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩২ টাকা। ডিপিএস ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭ টাকা। যানবাহন ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সোনা অন্যান্য ধাতু ১ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র তিন লাখ ৫০ হাজার।

তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২১ টাকা। এরমধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৫শ’ টাকার কৃষি জমি, বনানী আবাসিক এলাকায় এক কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৩২১ টাকা মূল্যের ২৬৮৮ স্কয়ার ফুট ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা দক্ষিণ আবাসিক এলাকায় অগ্রিম হিসাবে দেওয়া ৫৪ লাখ মূল্যের ৭২শ’ স্কোয়ার ফুট প্লট।

সম্পদে এগিয়ে কাদের
এমএ পাস আবদুল কাদের (৬২) পেশায় ব্যবসায়ী। তার নামে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৮ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে আয় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। ব্যবসায় আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয় ব্যাংক আমানত আয় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৮ টাকা।

জামায়াত ইসলামী প্রার্থী আবদুল কাদের -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র এক কোটি। ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইভেটকার, দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২২ ভারি স্বর্ণ, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, এক লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পিস্তল, ১২০ দশমিক ৪১ শতাংশ জমি।

নিজ নামে ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ১০৮ টাকা মূল্যের ১৫৭ দশমিক ৫৮ শতক কৃষি জমি, এক কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ভবন ও ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট। ব্যাংক ঋণ ও জমি বিক্রি বাবদ অগ্রিম গ্রহণ ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৮ টাকা।

স্ত্রী সাবেকুন নাহার জেসমিনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও আয়ের উৎস নেই। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরমধ্যে নগদ আছে ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকার, সঞ্চয়পত্র দুই কোটি টাকার, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৩ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পদ ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৩ শতক কৃষি জমি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হলফনামা বিশ্লেষণ : যশোর-৩ (সদর)

আয় বেশি বিএনপির অমিতের, সম্পদে এগিয়ে জামায়াতের কাদের

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিবারই যশোর জেলার প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সদর আসন। পুরো জেলার রাজনীতি তথা সাংগঠনিক কার্যক্রমে জেলা শহরের ফোকাসই পড়ে অন্যান্য উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত। আর এবারের নির্বাচনে বিএনপি সরকারের একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর ব্যতিক্রমী লড়াইকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মনোযোগও বিশেষরকমের কৌতুহলোদ্দীপক।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাবেকমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নার্গিস ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদের এর আগে যশোরে কোনো সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে আশির দশকের শুরুতে শিবির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন। সেই হিসেবে ভিপি কাদের নামে তার পরিচিতি রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মোকাবেলা করেছেন বা লড়ছেন ৫৩টি মামলায়। জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল কাদেরের নামে কোনো মামলা নেই। পেশায় দুই প্রার্থীই ব্যবসায়ী। নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির অমিতের আয় বেশি হলেও সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের কাদের। ২১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক আবদুল কাদের। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ টাকা। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর-অবস্থাবর সম্পদ প্রায় ১২ কোটি টাকার। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৯৩ লাখ টাকা।

৫৩ রাজনৈতিক মামলা অমিতের
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (৫০) পেশায় ব্যবসায়ী। এমএসসি, এমবিএ পাস অমিত নির্বাচনী হলফনামায় ৫৩টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে চলমান রয়েছে ৭টি মামলা, খালাস পেয়েছেন ১২টি। অব্যাহতি পেয়েছেন ১৯টিতে। ১২টি মামলায় অব্যাহতির জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত। তিনটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট নামঞ্জুর। সবগুলো মামলাই রাজনৈতিক।

অমিতের বার্ষিক আয় ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২শ’ টাকা, বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২২৫ টাকা, ব্যবসায় এক লাখ এক হাজার ৭২৮ টাকা, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪৪ টাকা, অন্যান্য উৎস থেকে আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের অস্থাবর সম্পদ ১১ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে নগদ ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫১১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দুই কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ টাকা, শেয়ার, বন্ড এক কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯ টাকা। ইউনিভার্সেল এন্টারপ্রাইজের অংশীদার কারবারে মূলধন বিনিয়োগ ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ টাকা, সঞ্চয়পত্র স্থায়ী আমানত তিন কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ টাকা। ডিপিএস দুই কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ৯১১ টাকা। বীমা ও ট্রাস্টের মূল্য ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার। অন্যান্য ৬৩ লাখ টাকা। ৯০ ভরি স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর গহনা উপহার পেয়েছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থাবর সম্পদ এক কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার ৮০৮ টাকা মূল্যের। এরমধ্যে ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৮ টাকার কৃষি জমি। সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জমিসহ বাড়ি, ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিন দশমিক ৮২ শতক জমি, ঢাকার মগবাজারে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের শূণ্য দশমিক ০৯ একর জমি, যশোরের বালিয়াডাঙ্গায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সাত শতক জমি। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দোকান ভাড়ার অগ্রিম, জরুরি প্রয়োজনে দায়-দেনা চার কোটি ৫৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্ত্রী সোহানা পারভীনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। তার বার্ষিক আয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তার মোট অস্থাবর সম্পদ তিন কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮ টাকা। এর মধ্যে তার নগদ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭১ টাকা। সঞ্চয়পত্র আমানত এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩২ টাকা। ডিপিএস ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭ টাকা। যানবাহন ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সোনা অন্যান্য ধাতু ১ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা। ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র তিন লাখ ৫০ হাজার।

তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৮২১ টাকা। এরমধ্যে এক লাখ ৯২ হাজার ৫শ’ টাকার কৃষি জমি, বনানী আবাসিক এলাকায় এক কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ৩২১ টাকা মূল্যের ২৬৮৮ স্কয়ার ফুট ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা দক্ষিণ আবাসিক এলাকায় অগ্রিম হিসাবে দেওয়া ৫৪ লাখ মূল্যের ৭২শ’ স্কোয়ার ফুট প্লট।

সম্পদে এগিয়ে কাদের
এমএ পাস আবদুল কাদের (৬২) পেশায় ব্যবসায়ী। তার নামে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৮ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে আয় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা। ব্যবসায় আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয় ব্যাংক আমানত আয় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৮ টাকা।

জামায়াত ইসলামী প্রার্থী আবদুল কাদের -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

৯ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র এক কোটি। ১৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের প্রাইভেটকার, দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২২ ভারি স্বর্ণ, দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, এক লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পিস্তল, ১২০ দশমিক ৪১ শতাংশ জমি।

নিজ নামে ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে ২৮ লাখ ৮৯ হাজার ১০৮ টাকা মূল্যের ১৫৭ দশমিক ৫৮ শতক কৃষি জমি, এক কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৪১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ভবন ও ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট। ব্যাংক ঋণ ও জমি বিক্রি বাবদ অগ্রিম গ্রহণ ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৮ টাকা।

স্ত্রী সাবেকুন নাহার জেসমিনের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও আয়ের উৎস নেই। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরমধ্যে নগদ আছে ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৩ টাকা। শেয়ার, বন্ড মূল্য এক কোটি টাকার, সঞ্চয়পত্র দুই কোটি টাকার, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৩ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার স্থাবর সম্পদ ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪৩ শতক কৃষি জমি রয়েছে।