ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে তালপাতায় লিখে বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা দুইশ’ শিশুর

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৭২ বার পড়া হয়েছে

তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি কোমলমতি শিশুর -কপোতাক্ষ

পৌষের মিষ্টি সকালে মা আর দাদির সাথে উদীচীর হাতেখড়ি উৎসবে এসেছে শিশু আদিয়াত ফাইয়াজ। তালপাতায় অ আ ক খ লেখার আনন্দ তাকে উৎসাহিত করছে। এর আগে কখনও এমন উৎসব করে বর্ণ লেখা শেখা হয়নি তার। বাবা মা দাদা দাদি ফুফুর কাছে বাড়িতে শ্লেটে বর্ণ লেখা শেখা শুরু তার। ফাইয়াজ আধো আধো কণ্ঠে বলল, আমি খুশি। পাতায় অ, আ লিখেছি। অনেক আনন্দ লাগছে।

ফাইয়াজের মতো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয়েছে যশোরের দুইশ’ কোমলমতি শিশুর।

উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের আয়োজনে হাতেখড়ি উৎসবে আলোকিত মানুষেরা শিশুদের হাত ধরে তালাপাতার উপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করেন।

হাতেখড়ি উপলক্ষে আজ শিশু (শনিবার) সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেয়া হলো হাতেখড়ি।

অভিভাবক ফারজানা বৃষ্টি বলেন, ‘আমার যমজ সন্তানকে নিয়ে এসেছি তালপাতার হাতেখড়ি দিতে। এটি প্রশংসিত ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন যশোরে কেউ করে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

যশোরের বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও।

অতিথিদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্যে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর একে একে পরিবেশন করেন উদীচী শিশু শিল্পীদের সংগীত ও দলীয় নৃত্য।

এরপর অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বিভিন্ন গুণীজনেরা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যশোরের শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরি। তিনি বলেন, স্কুলজীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শিক্ষার কারিকুলামে উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ। একইসাথে এই ধরনের আয়োজন ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও সরকারের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, গত ১৯ বছর ধরে এ হাতেখড়ি উৎসবের আয়োজন করছে। অতীতে আমাদের শিক্ষাগুরুরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ির মধ্য দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করতো। উদীচী এই আদি সংস্কৃতি ধারণ করে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতের সংস্কৃতিটা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সমাজের আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়বে আগামির এসব শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, যশোর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, সংবাদপত্র পরিষদ যশোরের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেশ কুমার রায়, সাংবাদিক ও গবেষক সাজেদ বকুল প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে তালপাতায় লিখে বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা দুইশ’ শিশুর

আপডেট সময় : ০৫:৩২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষের মিষ্টি সকালে মা আর দাদির সাথে উদীচীর হাতেখড়ি উৎসবে এসেছে শিশু আদিয়াত ফাইয়াজ। তালপাতায় অ আ ক খ লেখার আনন্দ তাকে উৎসাহিত করছে। এর আগে কখনও এমন উৎসব করে বর্ণ লেখা শেখা হয়নি তার। বাবা মা দাদা দাদি ফুফুর কাছে বাড়িতে শ্লেটে বর্ণ লেখা শেখা শুরু তার। ফাইয়াজ আধো আধো কণ্ঠে বলল, আমি খুশি। পাতায় অ, আ লিখেছি। অনেক আনন্দ লাগছে।

ফাইয়াজের মতো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হয়েছে যশোরের দুইশ’ কোমলমতি শিশুর।

উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের আয়োজনে হাতেখড়ি উৎসবে আলোকিত মানুষেরা শিশুদের হাত ধরে তালাপাতার উপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করেন।

হাতেখড়ি উপলক্ষে আজ শিশু (শনিবার) সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেয়া হলো হাতেখড়ি।

অভিভাবক ফারজানা বৃষ্টি বলেন, ‘আমার যমজ সন্তানকে নিয়ে এসেছি তালপাতার হাতেখড়ি দিতে। এটি প্রশংসিত ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন যশোরে কেউ করে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

যশোরের বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও।

অতিথিদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্যে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর একে একে পরিবেশন করেন উদীচী শিশু শিল্পীদের সংগীত ও দলীয় নৃত্য।

এরপর অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বিভিন্ন গুণীজনেরা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যশোরের শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরি। তিনি বলেন, স্কুলজীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শিক্ষার কারিকুলামে উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ। একইসাথে এই ধরনের আয়োজন ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও সরকারের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, গত ১৯ বছর ধরে এ হাতেখড়ি উৎসবের আয়োজন করছে। অতীতে আমাদের শিক্ষাগুরুরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ির মধ্য দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করতো। উদীচী এই আদি সংস্কৃতি ধারণ করে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতের সংস্কৃতিটা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সমাজের আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়বে আগামির এসব শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, যশোর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, সংবাদপত্র পরিষদ যশোরের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেশ কুমার রায়, সাংবাদিক ও গবেষক সাজেদ বকুল প্রমুখ।