ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে চরমপন্থী সদস্য রানা হত্যাকাণ্ড

মামলা হলেও আসামি আটক নেই

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

দুর্বত্তদের হাতে নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

যশোরের মণিরামপুর চরমপন্থী সদস্য রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত সে সম্পর্কেও পুলিশ এখনও কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি করে ও গলাকেটে হত্যা করে চরমপন্থী সদস্য রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৫)। নিহত রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কপালিয়া বাজারে রানার একটি বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। এছাড়া কেশবপুর উপজেলার কাটাখালী বাজারে তার একটি মাছের আড়ৎও রয়েছে। পাশের জেলা নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি।

রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। চার বছর আগে তিনি অবসরে যান।

রানা প্রতাপ বৈরাগীরা দুই ভাইবোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। রানা প্রতাপের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, রানার বরফকলের ব্যবসার পাশাপশি মাছের আড়তের ব্যবসা আছে। এছাড়াও সে গানবাজনা করতো। সোমবার কপালিয়া বাজারের বরফকলে যাওয়ার কথা বলে সে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তার মৃত্যু সংবাদ পান।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে তার বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিমপাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায়।

এরপর দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রানা প্রতাপের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী মঙ্গলবার মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে পুলিশ এখনও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার-চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধে রানা প্রতাপ খুন হতে পারেন।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে হত্যার কারণ এখনও উদঘাটন করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ হত্যাকান্ডে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমদাদুল হক বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত এ হত্যার কারণ উদঘাটন সম্ভব হবে। হত্যাকারীদের ধরতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে চরমপন্থী সদস্য রানা হত্যাকাণ্ড

মামলা হলেও আসামি আটক নেই

আপডেট সময় : ০৫:১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর চরমপন্থী সদস্য রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত সে সম্পর্কেও পুলিশ এখনও কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যায় মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি করে ও গলাকেটে হত্যা করে চরমপন্থী সদস্য রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৫)। নিহত রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কপালিয়া বাজারে রানার একটি বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। এছাড়া কেশবপুর উপজেলার কাটাখালী বাজারে তার একটি মাছের আড়ৎও রয়েছে। পাশের জেলা নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি।

রানা প্রতাপ বৈরাগীর বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। চার বছর আগে তিনি অবসরে যান।

রানা প্রতাপ বৈরাগীরা দুই ভাইবোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। রানা প্রতাপের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, রানার বরফকলের ব্যবসার পাশাপশি মাছের আড়তের ব্যবসা আছে। এছাড়াও সে গানবাজনা করতো। সোমবার কপালিয়া বাজারের বরফকলে যাওয়ার কথা বলে সে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তার মৃত্যু সংবাদ পান।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে তার বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিমপাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায়।

এরপর দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রানা প্রতাপের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী মঙ্গলবার মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে পুলিশ এখনও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতা এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার-চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধে রানা প্রতাপ খুন হতে পারেন।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যার ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে হত্যার কারণ এখনও উদঘাটন করা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ হত্যাকান্ডে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমদাদুল হক বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত এ হত্যার কারণ উদঘাটন সম্ভব হবে। হত্যাকারীদের ধরতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে।