নাগরিক শোকসভায় বক্তারা
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশের প্রধান নারী প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (সোমবার) যশোরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে এ নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পৌষের কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে যশোরবাসীর সরব উপস্থিতিতে টাউন হল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে নাগরিক শোকসভা শুরু হয়।
নাগরিক শোকসভায় যশোরের সর্বস্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এটি ধরে রাখার দায়িত্ব বিএনপি নেতাকর্মীদের। তারা যদি ঐক্য ধরে রাখতে পারে, তাহলে জাতি আগামী দিনে সঠিক পথের দিশা খুঁজে পাবে। অন্যথায় জাতি পথ হারাবে।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে প্রথম যশোরে এসে টাউন হল মাঠের স্বাধীনতা উন্মুক্ত মঞ্চে জনসভা করেছিলেন। অকাল বৈধব্যের শোকে জর্জরিত বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির কণ্টকময় পথে পা বাড়িয়েছিলেন গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে। দুটি শিশু সন্তানের কথা না ভেবে, লক্ষ জনতার পায়ে পা মিলিয়ে ধুলির জয়রথে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন। তার দুরদর্শী এবং আপোষহীন নেতৃত্ব স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে সেদিন গণতন্ত্রের বিজয় অর্জিত হয়েছিল। মাত্র ১০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সর্বোচ্চ পাঁচটি নিয়ে আসনে বিজয় লাভ করে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বক্তারা বলেন, সামরিক শাসনে বিধ্বস্ত দেশ, ভঙ্গুর গণতন্ত্র, দুর্বল অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সকল বিশৃঙ্খলা থেকে তিনি উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন। দেশকে তিনি এমন উচ্চতায় নিয়ে যান যে বাংলাদেশ ইমাজিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। বিশ্ব ব্যাংক তার অনুসৃত নীতির প্রশংসা করেছিল। সমমর্যাদার ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। তিনি একমুখি নীতি থেকে বেরিয়ে অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরিয়েছিলেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও সেই ডাক সেদিন আমরা বুঝি নাই। শত্রু মিত্র চিনিয়ে দেবার ক্ষমতা ছিল তাঁর। তিনি প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে, সকলকে নিয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি অর্ন্তভুক্তিমুলক রাজনীতি চেয়েছিলেন।
তারা বলেন, সমগ্র দেশের মতো যশোরবাসীর সাথে বেগম খালেদা জিয়ার নিবিড় সম্পর্ক রয়ে গেছে। আজ যশোরের যে প্রান্তে আমরা তাকাই না কেন, সবখানে তাঁর উন্নয়নে অবদান রয়েছে। বেগম খালেদাকে সকল মত পথের মানুষ কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে।
বক্তারা বলেন, দেশ যখনই কোনো সংকটে পড়েছে, তখনই তিনি জাতির সামনে আলোকবর্তিকা হিসেবে আর্ভিভূত হয়েছিলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি সমগ্র রাজনৈতিক মানুষকে উজ্জীবিত। তিনি গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধের অধিকারী, মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরির বাতাবরণ সৃষ্টির এক মহাঐক্যের জলন্ত প্রদীপ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাঙালি থাকবে, যতদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন থাকবে, ততদিন বেগম খালেদা জিয়া সকলের হৃদয়ে থাকবেন।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের পরিচালনায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোকসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু জাফর, জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আবদুল মান্নান, বিশিষ্ট আইনজীবী এনামুল হক, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আয়ুব হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকউজ্জামান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ জেলা শাখার সম্পাদক তসলিম উর রহমান, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক বেনজিন খান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্যামল দাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ যশোর জেলা শাখার নেতা হারুন অর রশিদ, সিপিবি জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, জাতীয় নাগরিক পার্টি জেলা শাখার আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, যশোর-৫ মনিরামপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশিদ বিন ওয়াক্কাস, উদীচী যশোর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, আইডিবি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রুহুল আমিন আমিন, জুলাই যোদ্ধা ও সিপিবি মনোনীত যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রাশেদ খান প্রমুখ।
পরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



















