ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরের ছয় আসনের যাচাই বাছাই সম্পন্ন

মনোনয়ন বৈধ ২৪ প্রার্থীর, বাতিল ১৮

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ হয়েছে ২৪ জন প্রার্থীর। এছাড়া ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

শনিবার যশোর জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই শেষে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার এই মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শুরু হয়ে শনিবার শেষ হয়া।

এর আগে যশোরের ৬টি আসনে মোট ৪৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই করা হয়। এতে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ও ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৮ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বৈধ ও চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বৈধ চার প্রার্থী হলেন : বিএনপি মনোনীত রশীদ আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন।

এই আসনে বাতিল হয়েছে চারজনের মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এমএ হালিমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া ১ শতাংশ ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান, এবিএম গোলাম মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এই আসনে বৈধ প্রার্থী তিনজন হলেন : বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী ও এবি পার্টির মাহমুদ হাসান।

বাতিল হয়েছে দু’টি মনোনয়পত্র। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জি এম হাসানের মনোনয়নপত্র। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন ও দলীয় অঙ্গীকারনামায় সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকায় এটি বাতিল করা হয়। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের হালনাগাদ তথ্য সরবরাহের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-১ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমানের।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চার প্রার্থীর। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে।

এই আসনে বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ও টিআইএন তথ্য ও জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ শাহের টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন : বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের ইমরান খান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের। তবে ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে। তাই প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তিনি আপিল করবেন। এবং যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়েছে তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি ছিলেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন : বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী রাশেদ খান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি রয়েছেন। টিএস আইয়ূবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের কর্মকর্তারা।

তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেনি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।

ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন : বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরের ছয় আসনের যাচাই বাছাই সম্পন্ন

মনোনয়ন বৈধ ২৪ প্রার্থীর, বাতিল ১৮

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ হয়েছে ২৪ জন প্রার্থীর। এছাড়া ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

শনিবার যশোর জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই শেষে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার এই মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শুরু হয়ে শনিবার শেষ হয়া।

এর আগে যশোরের ৬টি আসনে মোট ৪৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাই করা হয়। এতে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ও ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৮ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বৈধ ও চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বৈধ চার প্রার্থী হলেন : বিএনপি মনোনীত রশীদ আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন।

এই আসনে বাতিল হয়েছে চারজনের মনোনয়নপত্র। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এমএ হালিমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া ১ শতাংশ ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান, এবিএম গোলাম মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এই আসনে বৈধ প্রার্থী তিনজন হলেন : বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী ও এবি পার্টির মাহমুদ হাসান।

বাতিল হয়েছে দু’টি মনোনয়পত্র। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জি এম হাসানের মনোনয়নপত্র। ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন ও দলীয় অঙ্গীকারনামায় সাক্ষীর স্বাক্ষর না থাকায় এটি বাতিল করা হয়। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাইয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী গোলদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে তথ্যের ঘাটতি থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ও জাতীয় পার্টি মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের হালনাগাদ তথ্য সরবরাহের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-১ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বখতিয়ার রহমানের।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চার প্রার্থীর। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় বিএনপির মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে ত্রুটি থাকায় বাতিল হয়েছে।

এই আসনে বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ও টিআইএন তথ্য ও জাতীয় পার্টি মনোনীত ফিরোজ শাহের টিআইএন ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

যশোর-২ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন : বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের ইমরান খান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক আগের। তবে ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে। তাই প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তিনি আপিল করবেন। এবং যেহেতু সমস্যার সমাধান হয়েছে তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার যশোর-৩ (সদর) ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। সদরে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়ন। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি ছিলেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন : বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী রাশেদ খান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি রয়েছেন। টিএস আইয়ূবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্যাঞ্চের কর্মকর্তারা।

তার ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ১০ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেনি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।

ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন : বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াত ইসলামীর ৬ জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৬ জন, জাতীয় পার্টি ৬ জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন, এবি পার্টির ২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এর আগে ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী।