যশোরে বিএনপি নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
যশোর শহরের শংকরপুরে আলমগীর হোসেন (৫৩) নামে বিএনপির এক নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর পৌরসভার শংকরপুর ইসহাক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন বলে এলাকাবাসী জানান।
নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলযোগে শহরের বটতলা এলাকা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তিনি হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে কে বা কারা তাকে গুলি করে। সংবাদ পেয়ে তিনি সদর হাসপাতালে এসে তার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান।
বিএনপির সাত নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, নিহত আলমগীর হোসেন সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং যশোর নগর বিএনপির সাবেক সদস্য।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন শংকরপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় অজ্ঞাতনামা একদল দুষ্কৃতকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথার বাম পাশে বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
সূত্র আরও জানায়, নিহত আলমগীর জমি ও প্লটের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে জমির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এই হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার বিচিত্র মল্লিক বলেন, নিহতের মাথার দু’পাশে দুটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন আছে। সরাসরি মাথায় গুলির কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মমিনুল হক বলেন, শংকরপুর ইসহাক সড়কে বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার এবং আসামি আটকের চেষ্টা করছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, ঘটনার পর পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনাস্থল এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে।
এদিকে, দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আলমগীরকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি হাসপাতালে আলমগীরের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলেও পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। একই কায়দায় বর্তমান সরকারের আমলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।


















