মানবিক চিকিৎসক ডা. নিকুঞ্জ বিহারীর চিকিৎসাসেবা
দেড় যুগ পর যমজ সন্তানের মুখ দেখলেন দম্পতি
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
প্রায় দেড় যুগ ধরে সন্তানহীন এক দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার -কপোতাক্ষ
প্রায় দেড় যুগ ধরে সন্তানহীন এক দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন যশোরে গাইনি চিকিৎসাসেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলা অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার। যশোর মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক রোববার সন্ধ্যায় যশোর শহরের বেসরকারি একটি হসপিটালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সন্তান প্রসব করান।
সন্তানের মুখ দেখা এই দম্পতি সজল কুমার শীল ও বাসন্তী রায় নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা।
সজল কুমার শীল জানান, তাদের বিয়ের বয়স ১৭ বছর। অনেক চেষ্টা করেও তারা সন্তান লাভ করতে পারেননি। এজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে ভারত ও বাংলাদেশের বহু ডাক্তারের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। অবশেষে তারা যশোরের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের শরণাপন্ন হন। তার দীর্ঘ চিকিৎসাসেবায় জমজ সন্তানের মুখ দেখলেন। তাদের পরিবারের লোকজন অনেক খুশি হয়েছেন।
দুই সন্তানের জন্ম দেওয়া বাসন্তি রায় জানান, আশায় ছিলেন কবে তিনি ‘মা’ হবেন। দেরিতে হলেও আশা পূরণ হয়েছে। জমজ সন্তান পেয়ে তার কোল ভরে গেছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রসব যন্ত্রণা ভুলে গেছেন।
অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার জানান, বাসন্তি রায়ের জরায়ুতে সমস্যা ছিল। তার জরায়ু অনেক বড়। তিনি আন্তরিকতার সাথে রোগীর চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। রোববার সিজারের মাধ্যমে যমজ সন্তান প্রসব করেছেন। অস্ত্রোপচারে দুই ঘন্টারও বেশি সময় লেগেছে। ওই দম্পতির কোলে যমজ সন্তান তুলে দিতে পেরে তিনি সফল ও গর্বিত। এখন মা ও ছেলে, মেয়ে সুস্থ আছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে যশোরে তিনটি প্রসূতির বিকল্প পদ্ধতিতে রক্তপাত ছাড়াই সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়া অস্ত্রোপচার করে সফলতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তিনি প্রথম এমন পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করেন। রোগীর জন্মগত দুটি জরায়ুর একটি ব্লকড জরায়ু অস্ত্রোপচার করেও তিনি চমক দেখিয়েছেন। এছাড়া গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান ও অপারেশন করে থাকেন মানবিক এই চিকিৎসক।


















