ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোর-১ আসন

তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আবেগ, ক্ষোভ ও কান্না

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে শার্শা বল্ডফিল্ডে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন -কপোতাক্ষ

যশোর-১ (শার্শা-বেনাপোল) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার অনুসারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

আজ (সোমবার) বিকেলে শার্শা বল্ডফিল্ডে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। এ সময় উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসজল চোখে তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরেন, আর আবেগে ভেঙে পড়েন তিনিও। পরে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান মফিকুল হাসান তৃপ্তি। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া সেলেও তার প্রচারণার খবর নিয়মিত প্রকাশ পায়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয় যে, তিনিই হবেন চূড়ান্ত প্রার্থী।

তবে ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন আসে। যশোর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে। এ আসনে মোট চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। অপর দুইজন হলেন : শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষদিনে তৃপ্তিসহ অন্যরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তনের আশা জিইয়ে রাখছেন।

সোমবার বিকেলে বেনাপোল বল্ডফিল্ডে আসেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তার আগমনের খবরে মুহূর্তেই এলাকায় জনসমাগম ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও নারী সমর্থকদের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আকুতি জানান। বক্তব্যে দেয়ার সময় মফিকুল হাসান তৃপ্তি কাঁদতে কাঁদতে নেতাকর্মীদের কাছে সমর্থন চাইলে সকলেই সমস্বরে বলেন, ‘আমরা আপনার সাথেই আছি। তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।’

বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত সাংবাদিকদের বলেন, শার্শা ও বেনাপোলের মানুষের সঙ্গে মফিকুল হাসান তৃপ্তির গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মনোনয়ন বাতিল হবে এটা কেউ কল্পনাও করেনি। তাই সাধারণ মানুষ মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, এই আসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি। হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা আশা করি, দলের হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোর-১ আসন

তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আবেগ, ক্ষোভ ও কান্না

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

যশোর-১ (শার্শা-বেনাপোল) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার অনুসারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

আজ (সোমবার) বিকেলে শার্শা বল্ডফিল্ডে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। এ সময় উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসজল চোখে তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরেন, আর আবেগে ভেঙে পড়েন তিনিও। পরে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান মফিকুল হাসান তৃপ্তি। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া সেলেও তার প্রচারণার খবর নিয়মিত প্রকাশ পায়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয় যে, তিনিই হবেন চূড়ান্ত প্রার্থী।

তবে ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন আসে। যশোর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে। এ আসনে মোট চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। অপর দুইজন হলেন : শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষদিনে তৃপ্তিসহ অন্যরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তনের আশা জিইয়ে রাখছেন।

সোমবার বিকেলে বেনাপোল বল্ডফিল্ডে আসেন মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তার আগমনের খবরে মুহূর্তেই এলাকায় জনসমাগম ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও নারী সমর্থকদের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আকুতি জানান। বক্তব্যে দেয়ার সময় মফিকুল হাসান তৃপ্তি কাঁদতে কাঁদতে নেতাকর্মীদের কাছে সমর্থন চাইলে সকলেই সমস্বরে বলেন, ‘আমরা আপনার সাথেই আছি। তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।’

বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত সাংবাদিকদের বলেন, শার্শা ও বেনাপোলের মানুষের সঙ্গে মফিকুল হাসান তৃপ্তির গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মনোনয়ন বাতিল হবে এটা কেউ কল্পনাও করেনি। তাই সাধারণ মানুষ মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, এই আসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি। হঠাৎ করে তাকে বাদ দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা আশা করি, দলের হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।