ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোর-৫

জোটের প্রার্থী বাদ দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর দাবিতে বিক্ষোভ

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩১ বার পড়া হয়েছে

মনোনয়ন পরিবর্তন করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ -কপোতাক্ষ

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তন করায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আজ (শুক্রবার) বিকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের গায়ে ও মাথায় সাদা কাফনের কাপড় বেঁধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানবো না’, ‘জোটের প্রার্থী মানি না, মানবো না’- এমন বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়ন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিএনপির ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পুনরায় মনোনয়ন বিএনপি থেকে না হলে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আসনটিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে জোটের শরীক দলকে ছাড় দিয়ে এসেছে। এবার প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী শহীদ ইকবালও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েন।

কিন্তু হঠাৎ করেই গত বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের ঘোষণায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাথায় বজ্রাঘাত হয়েছে। মনোনয়ন পরিবর্তন করায় ক্ষুদ্ধ মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর অনুসারীরা। প্রতিবাদে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় পরে সড়কের উপরে বসে পড়েন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দলের শীর্ষনেতারা তাদের উঠিয়ে দিলে যানজট স্বাভাবিক হয়।

মনিরামপুর পৌর বিএনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা, মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৫ জন নেতা হত্যার শিকার হয়েছে। সেই দুর্দিনে কোনো শরীক দলের নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন দলের সুসময় এসেছে। বারবার নির্যাতিত হয় বিএনপি নেতাকর্মীরা; আর সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়ন দেওয়া হয় শরীক দলের। বারবার আমরা আসনটিকে বর্গা দিতে চাই না। বারবার আসনটি শরীকদের ছেড়ে দেওয়াতে নেতাকর্মীরা হতাশ। ফলে এই নেতাকর্মীদের জোটের শরীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানো কিভাবে সম্ভব হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। এজন্য নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্যও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন। এখন রাজপথেও নেমেছে। প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে।

উপজেলার রোহিতা ইউনিয়ন থেকে আসা জুয়েল হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, বারবার আসনটি শরীকদলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাকে এবার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাকে কেউ চেনে না। কেন্দ্রে তার পুলিং এজেন্ট দেওয়ার লোকও নাই। এমন লোককে মনোনয়ন দেওয়াতে আসনটি বিএনপি হারাবে। আমাদের দাবি, মনোনয়ন পুনঃবিবেচনা করে যাকে আগে দেওয়া হয়েছিল, শহীদ ইকবাল হোসেনকে দেওয়া হোক। তা না হলে উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী উপজেলা অচল করে দেবে।
মনোনয়ন বঞ্চিত শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন না। তিনি মুঠোফোনে জানান, ‘কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তারা বিক্ষোভ করছেন।’

তবে নতুন মনোনীত প্রার্থী মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘যেহেতু প্রাথমিক একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থীর পরিবর্তন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষোভ হতাশা থাকবেই। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারা তার সাথেই থাকবেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোর-৫

জোটের প্রার্থী বাদ দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তন করায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আজ (শুক্রবার) বিকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের গায়ে ও মাথায় সাদা কাফনের কাপড় বেঁধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানবো না’, ‘জোটের প্রার্থী মানি না, মানবো না’- এমন বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

নেতাকর্মীরা জানান, মনোনয়ন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিএনপির ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পুনরায় মনোনয়ন বিএনপি থেকে না হলে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আসনটিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে জোটের শরীক দলকে ছাড় দিয়ে এসেছে। এবার প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। প্রার্থী শহীদ ইকবালও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েন।

কিন্তু হঠাৎ করেই গত বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের ঘোষণায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাথায় বজ্রাঘাত হয়েছে। মনোনয়ন পরিবর্তন করায় ক্ষুদ্ধ মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীর অনুসারীরা। প্রতিবাদে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় পরে সড়কের উপরে বসে পড়েন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দলের শীর্ষনেতারা তাদের উঠিয়ে দিলে যানজট স্বাভাবিক হয়।

মনিরামপুর পৌর বিএনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা, মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৫ জন নেতা হত্যার শিকার হয়েছে। সেই দুর্দিনে কোনো শরীক দলের নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন দলের সুসময় এসেছে। বারবার নির্যাতিত হয় বিএনপি নেতাকর্মীরা; আর সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়ন দেওয়া হয় শরীক দলের। বারবার আমরা আসনটিকে বর্গা দিতে চাই না। বারবার আসনটি শরীকদের ছেড়ে দেওয়াতে নেতাকর্মীরা হতাশ। ফলে এই নেতাকর্মীদের জোটের শরীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামানো কিভাবে সম্ভব হবে তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। এজন্য নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্যও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছেন। এখন রাজপথেও নেমেছে। প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে।

উপজেলার রোহিতা ইউনিয়ন থেকে আসা জুয়েল হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, বারবার আসনটি শরীকদলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাকে এবার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাকে কেউ চেনে না। কেন্দ্রে তার পুলিং এজেন্ট দেওয়ার লোকও নাই। এমন লোককে মনোনয়ন দেওয়াতে আসনটি বিএনপি হারাবে। আমাদের দাবি, মনোনয়ন পুনঃবিবেচনা করে যাকে আগে দেওয়া হয়েছিল, শহীদ ইকবাল হোসেনকে দেওয়া হোক। তা না হলে উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী উপজেলা অচল করে দেবে।
মনোনয়ন বঞ্চিত শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন না। তিনি মুঠোফোনে জানান, ‘কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তারা বিক্ষোভ করছেন।’

তবে নতুন মনোনীত প্রার্থী মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘যেহেতু প্রাথমিক একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থীর পরিবর্তন হয়েছে, সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষোভ হতাশা থাকবেই। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করেন। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারা তার সাথেই থাকবেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবেন।’