ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে বাবার সামনেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছেলেকে হত্যা

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

হাসপাতাল চত্বরে বাকরুদ্ধ রক্তাক্ত বৃদ্ধ বাবা বশির -কপোতাক্ষ

যশোরে বাবার সামনেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাগলাদাহ মালোপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত রিকশাচালক আব্দুস শহিদ (৪৫) পাগলাদাহ এলাকার বশির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার পর রক্তাক্ত ছেলের প্রাণ বাঁচাতে রিকশায় উঠিয়ে হাসপাতালে আনেন বৃদ্ধ বাবা বশির। বৃদ্ধা বাবার প্রাণপণ এই চেষ্টা বৃথা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলেই শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশ বলছে, শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে একই গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত যুবকের সঙ্গে শহিদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা শহিদকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেতে নিহত শহিদের পিতা বসিরকে ঘিরে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। বসিরের সমস্ত শরীরে ছেলের রক্তে ভেজা। সবাই তাকে জড়িয়ে কান্না করলেও চোখের সামনে সন্তানের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পরে নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বাকরুদ্ধ তিনি।

বসির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার তিন ছেলে তিন মেয়ে। শহিদ সকলের বড়। শনিবার সন্ধ্যার দিকে শহীদ রিকশা চালিয়ে বাসায় ফিরছিল। মালোপাড়ার রহমানের দোকানের সামনে একই এলাকার জাহাঙ্গীরের চার ছেলে আসিফ, মিরাজ, আলিফ, রিয়াজ এবং মানিক মিয়ার ছেলে ইরানের সাথে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল। গন্ডগোল শুনে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আসিফ চাকু দিয়ে তার বুকে পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে। আশেপাশে নারী পুরুষ চেয়ে দেখলেও দুর্বৃত্তদের হাতে চাকু থাকায় এগিয়ে যায়নি কেউ।’

বসির কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন, তিনি চেষ্টা করেও কাউকে ঠেকাতে পারেননি। চাকু দিয়ে বুকে পিঠে আঘাত করায় শহিদ মাটিতে পড়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চলে গেলে তিনি স্থানীয় একজন রিকশাচালককে সাথে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বোন শাহিদা খাতুন জানান, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঐ দুর্বৃত্তদের সাথে তার ভাইয়ের কথাকাটাকাটি হয়েছিল। তারা তার ভাইয়ের রিকশা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। শনিবার বিকেলে ফের তার ভাইয়ের রিকশা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বাধা দিলে তার সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। তখনই দুর্বৃত্তরা চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করে।

মূলত বিরোধটা কি নিয়ে, প্রশ্ন করা হলে শাহিদা জানিয়েছেন, এদের মাঝেমধ্যে একসাথে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। তার ভাইয়ের কাছে কিছু টাকা পায় আসিফ। ঐ টাকা নিয়েই বিরোধের সূত্র ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্রা মল্লিক জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শহিদ মারা গেছে। তার তার বুকের বাম পাশে ও উপরে বড় দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও টাকার দ্বন্দ্ব নিয়েই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারীদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। একইসাথে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে বাবার সামনেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছেলেকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

যশোরে বাবার সামনেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাগলাদাহ মালোপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত রিকশাচালক আব্দুস শহিদ (৪৫) পাগলাদাহ এলাকার বশির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার পর রক্তাক্ত ছেলের প্রাণ বাঁচাতে রিকশায় উঠিয়ে হাসপাতালে আনেন বৃদ্ধ বাবা বশির। বৃদ্ধা বাবার প্রাণপণ এই চেষ্টা বৃথা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলেই শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশ বলছে, শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে একই গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত যুবকের সঙ্গে শহিদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা শহিদকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেতে নিহত শহিদের পিতা বসিরকে ঘিরে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। বসিরের সমস্ত শরীরে ছেলের রক্তে ভেজা। সবাই তাকে জড়িয়ে কান্না করলেও চোখের সামনে সন্তানের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের পরে নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে বাকরুদ্ধ তিনি।

বসির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার তিন ছেলে তিন মেয়ে। শহিদ সকলের বড়। শনিবার সন্ধ্যার দিকে শহীদ রিকশা চালিয়ে বাসায় ফিরছিল। মালোপাড়ার রহমানের দোকানের সামনে একই এলাকার জাহাঙ্গীরের চার ছেলে আসিফ, মিরাজ, আলিফ, রিয়াজ এবং মানিক মিয়ার ছেলে ইরানের সাথে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল। গন্ডগোল শুনে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আসিফ চাকু দিয়ে তার বুকে পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে। আশেপাশে নারী পুরুষ চেয়ে দেখলেও দুর্বৃত্তদের হাতে চাকু থাকায় এগিয়ে যায়নি কেউ।’

বসির কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন, তিনি চেষ্টা করেও কাউকে ঠেকাতে পারেননি। চাকু দিয়ে বুকে পিঠে আঘাত করায় শহিদ মাটিতে পড়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চলে গেলে তিনি স্থানীয় একজন রিকশাচালককে সাথে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বোন শাহিদা খাতুন জানান, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঐ দুর্বৃত্তদের সাথে তার ভাইয়ের কথাকাটাকাটি হয়েছিল। তারা তার ভাইয়ের রিকশা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। শনিবার বিকেলে ফের তার ভাইয়ের রিকশা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বাধা দিলে তার সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। তখনই দুর্বৃত্তরা চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করে।

মূলত বিরোধটা কি নিয়ে, প্রশ্ন করা হলে শাহিদা জানিয়েছেন, এদের মাঝেমধ্যে একসাথে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত। তার ভাইয়ের কাছে কিছু টাকা পায় আসিফ। ঐ টাকা নিয়েই বিরোধের সূত্র ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্রা মল্লিক জানান, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শহিদ মারা গেছে। তার তার বুকের বাম পাশে ও উপরে বড় দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও টাকার দ্বন্দ্ব নিয়েই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারীদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। একইসাথে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।