কানাডার ভিসা ও চাকরির প্রলোভন
দুই যুবকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হলো ৪০ লাখ!
- আপডেট সময় : ০২:৩২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
কানাডার ভিসা ও চাকরির প্রলোভন দিয়ে যশোরের দুই যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রঙিন জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে সহায়-সম্পদ বিক্রি ও বন্ধক রেখে এখন পরিবার দু’টি নিঃস্ব হয়ে বিচারের আশায় ঘুরছে। আর কানাডার ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দিয়ে প্রতারক চক্র গা ঢাকা দিয়েছে।
ঘটনার শিকার দুই যুবক হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কালিয়ানী গ্রামের আবু সায়েমের ছেলে আলসাবা রাতুল ও হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল। প্রতারক চক্রের সদস্য নাসির উদ্দিন আলতাফ ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ভুক্তভোগী দুই যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ঐ টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
নাসির উদ্দিন আলতাফ একই গ্রামের মৃত আবু তালেব মোড়লের ছেলে। বিদেশে পাঠানোর নাম করে আলতাফ ও তার স্ত্রী দুজন মিলে ঢাকায় ভুয়া নামে ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
প্রতারণার শিকার আলসাবা রাতুল বলেন, দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তাকে নেপালে নিয়ে যায়। সেখানে কানাডার অ্যাম্বাসিতে নিয়ে ইন্টারভিউসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একসপ্তাহ পর দেশে পাঠিয়ে দেন।
দ্বিতীয়বার নিয়ে নেপালে একটি হোটেলে দুই মাস আটকে রাখে। চুক্তি ছিল ১৯ লাখ টাকা করে নেবে। হোটেলে আটকে রেখে বাড়িতে ফোন দিয়ে চুক্তি বাদে আরও এক লাখ করে টাকা নেয়। এরপর কানাডার ভিসা লাগানো পাসপোর্ট হাতে দিয়ে ঐদিন দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ কুয়েতে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘পরে বুঝতে পারি এটা কোন কানাডার অ্যাম্বাসি ছিল না। তারা একটি অ্যাম্বাসি অফিস বানিয়ে সেখানে নিয়ে যেয়ে কাগজপত্র জমা নেন এবং ইন্টারভিউ নেন। যাতে আমরা সন্দেহ না করি। আমাদের যখন পাসপোর্ট হাতে দেয় তখন দেখি পাসপোর্ট খোলা। পরে দেশে এসে পাসপোর্ট অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে দেখি এটা কানাডার ভুয়া ভিসা।’
আলসাবা রাতুলের পিতা আবু সায়েম বলেন, একটা সুন্দর জীবনের আশায় জমি বন্ধক ও ধানের উপরে সুদ করে ১৯ লাখ টাকা দিয়েছি দালাল আলতাফকে। ব্যাংকের মাধ্যমে (ইসলামী ব্যাংকে হিসাব নং :২০৫০৭৭৭০২০৫৫৯৭১৭৮) ও নগদ অর্থ তার হাতে তুলে দিই। সুদের টাকা দিতে দিতে আজ আমি পথের ফকির। বছরে দুইবার আড়াই লাখ করে পাঁচ লাখ টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। আজ আমি নিঃস্ব।
প্রতারণার শিকার আরেক যুবক শাকিল হোসেনের পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নাসির উদ্দিন আলতাফ আমার ফুফুতো ভাই। তারা স্বামী-স্ত্রী লোক পাঠানোর (আদম) ব্যবসা করে। আলতাফ একদিন এসে বলল, ভাই আমার তো ছেলে নেই। আপনার ছেলে মানেই আমার ছেলে। ছেলের জন্য একটা ভালো চাকরি আছে কানাডায়। ছেলেকে কানাডায় পাঠিয়ে দেন। নাসির উদ্দিন আলতাফের কথায় বিশ্বাস করে আমার দোকানপাট, জমি-জায়গা, গরু-ছাগল, হাঁসমুরগি সব বিক্রি করে ব্যাংক একাউন্টে (ইসলামী ব্যাংকে হিসাব নং :২০৫০৭৭৭০২০৫৫৯৭১৭৮) সাত বারে আমি ১৯ লাখ টাকা দিয়েছি। আজ আমার আপনজন আমাকে এতবড় ক্ষতি করলো। পথে বসালো। আমি এর বিচার চাই।’
অভিযুক্ত দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ দাবি করেন, তিনি মাধ্যম হিসেবে যোগাযোগ করে দিয়েছেন। ২০ লাখ টাকার মতো নেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে বসাবসিও হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে তারা নানান জায়গায় নানান কথা বলছেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, কানাডায় পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দেয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।



















