আইডিয়া পিঠা পার্কের ৮ বছর পূর্তি
পিঠা পার্বণের বাঙালিয়ানায় ভরপুর আয়োজন
- আপডেট সময় : ০২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে
‘পিঠা বাংলার ঐতিহ্য, পিঠা হোক বাংলাদেশের জাতীয় খাবার’ শ্লোগানে শিক্ষার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির সফল প্রকল্প ‘আইডিয়া পিঠা পার্ক’-এর ৮ বছর পূর্তিতে প্রাণবন্ত উৎসব ‘পিঠা পার্বণ’ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শীতকে বরণ করে নেওয়ার এ আয়োজনে ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মেলবন্ধন।
উৎসবে বক্তারা বলেন, আইডিয়া পিঠা পার্ক শুধু একটি পিঠা ব্যবসা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি মঞ্চ। আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি পিঠা ও পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেন সুযোগ ও দিকনির্দেশনা মিললে তরুণরাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। রক্ষা করতে পারে দেশের আপাত অযত্নে পড়ে থাকা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে।
উৎসবে ঐতিহ্যবাহী পিঠা, রঙিন আলোকসজ্জা আর খেজুরের পাতা, হাতপাখা, কুলো দিয়ে মনোমুগ্ধকর সাজসজ্জা সবাইকে নিয়ে গিয়েছিল অন্যরকম গ্রামীণ উৎসবের আমেজে। আয়োজনে ছিল নানা ধরনের পিঠার প্রদর্শনী ও বিক্রয়। সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় কবিতা, পুঁথিপাঠ, নাচ, গান, আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল রম্যবিতর্ক ‘পিঠার রাজ্যে আমিই সেরা’- যেখানে অংশগ্রহণকারীরা হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন বাঙালির প্রিয় ঐতিহ্য নানান ‘পিঠা’-কে ঘিরে নানা মজার দিক।
২০১৭ সালে শিক্ষক হামিদুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘আইডিয়া পিঠা পার্ক’ দেশের অন্যতম সৃজনশীল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। এটি কেবল ব্যবসা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরতার অনন্য উদাহরণ।
বর্তমানে চারজন উদ্যোক্তার তত্ত্বাবধানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের লভ্যাংশের এক-পঞ্চমাংশ নিয়মিতভাবে ব্যয় করা হয় সমাজকল্যাণমূলক কাজে।
চার উদ্যোক্তার মধ্যে আছেন সোমা খান, তানজিয়া জাহান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও নাবিলা সুলতানা।
এর প্রতিষ্ঠাতা সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক এখান থেকে কোনো গ্রহণ করেন না। লিখিতভাবেই এর সম্পূর্ণ মালিকানা তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, একসময় চিংড়ি যে আমাদের হোয়াইট গোল্ড হবে এটা কেউ জানতো না, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প রেমিট্যান্স আনবে তাও জানতো না, কিন্তু হয়েছে।
একইভাবে আমার দেশের ভাপা পিঠা, ছিটারুটি, কুলি, চিতই-এর মাঝেও আছে অপার সম্ভাবনা। পিঠা আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতায় এটিই হতে পারে লাখো তরুণের স্বনির্ভর হওয়ার অংশ।
আইডিয়া পিঠা পার্কের কোর্ডিনেটর সোমা খান বলেন, প্রথমে অনেকেই আমাদের পাগল বলেছে, অবিশ্বাস করেছে। আমরা শুধু স্যারকে বিশ্বাস করে কাজ করে চলেছি। এখন আলহামদুলিল্লাহ পুরো দেশ জানে আইডিয়া পিঠা পার্ক এর নাম।
আরেক উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এখন যশোরের সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান তাদের নাস্তায় পিঠা নেন। নানান কোম্পানি উর্ধতন কর্মকর্তাদের পিঠার ডালা নেন উপহারে। আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারছি, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।
উদ্যোক্তা তানজিয়া জাহান বলেন, শুরু থেকেই এর সম্পূর্ণ মালিকানা কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি লভ্যাংশের এক-পঞ্চমাংশ যায় আর্ত-মানবতার সেবায়, যা দিয়ে প্রতিনিয়ত আমরা সমাজের জন্য ভালো কাজ করছি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আরেক উদ্যোক্তা নাবিলা সুলতানা। তিনি বলেন, পিঠা পার্ক এখন শুধু দেশের মধ্যেই নয় বরং বিদেশেও রপ্তানি করছে বাংলার পিঠা।
অনুষ্ঠানে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবিব, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডা. মো হুসাইন শাফায়াত, সিভিল সার্জন ডা. মো মাসুদ রানা, সরকারি এম এম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. খ ম রেজাউল করিম, সরকারি এম এম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোছা পারভীন সুলতানা, চট্টগ্রাম হাটহাজারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদ মাহমুদ, লেখক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত রিজিওনাল হেড ফকির আকতারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



















