জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় : রিজওয়ানা হাসান
ভবদহ অঞ্চলে ছয় নদী খননে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৬৩ বার পড়া হয়েছে
যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর ৮১.৫০০ কিলোমিটার খননকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে ভিডিওকলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই অঞ্চলের জন্য আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ভিডিওকলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতার দুঃখ দূর করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সংকটটি অনেক গভীর। তাই কয়েকটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৬টি নদীর ৮১ কিলোমিটার খননের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পানি সরিয়ে ফেলা হবে। এতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়টিও আমাদের ভাবনায় রয়েছে। সকলে মিলেই সেই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন বিষয়ে সকল পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণ ও পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই নদী খননের কাজে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী প্রকল্পও গ্রহণ করা হবে। খুব দ্রুতই ভবদহ এলাকার আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আগামী ডিসেম্বরে এই অঞ্চল পরিদর্শনে আসার কথাও উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক বিএম আব্দুল মোমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না ও কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ বলেন, যেকোনো চ্যালেঞ্জিং কাজের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনও অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। এই অঞ্চলটি তুলনামূলক নিচু এলাকা। এই অঞ্চলের ৬টি নদী খননের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের জন্য সমন্বিত প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব কিছুর মাধ্যমে এই অঞ্চলের জনগণকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে চাই। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক বিএম আব্দুল মোমিন বলেন, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার আন্তরিক। এজন্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। জনগণের চওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ করা হবে। তবে ভবদহ অঞ্চলের প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট নিয়ে গুজবও আছে। তিনি যোগদান করার পর ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি টাকা। গড়ে বছরে মাত্র ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, সবাই ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার নিরসন চায়। সরকারও এই বিষয়ে আন্তরিক। এজন্যই খুব দ্রুত এই অঞ্চলের ৬টি নদী খনন ও আমডাঙ্গা খাল খননের দু’টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আরও প্রকল্প আসছে। তবে এখনও এই অঞ্চলে টিআরএম নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। তবে আমরা সবাই সমাধান চাই। এজন্য বিশেষজ্ঞদের উপর আস্থা রাখতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ না থাকলে সমাধান কঠিন হয়ে যাবে। তবে স্থানীয় জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাত ও ভবদহ স্লুইসগেটের পাশ থেকে মাটি কাটার মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিথিবৃন্দ।
এর আগে, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারাধার) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা উঠলে স্থানীয়রা পক্ষে বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ভবদহ অঞ্চলের টেকা নদী ৭ কিলোমিটার, হরি নদী ১৫ কিলোমিটার, তেলিগাতি ৫ কিলোমিটার, আপারভদ্রা ১৮.৫০০ কিলোমিটার, হরিহর ৩৫ কিলোমিটার এবং শ্রী নদী এক কিলোমিটারসহ মোট ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে।
এছাড়া, দ্রুত সময়ের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমডাঙ্গা খাল খনন প্রকল্পেরও উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।



















