ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

একদিনে দেড়শ টাকা বেড়ে ৪৫০ টাকা কেজি

যশোরে কাঁচামরিচের সেই ঝাঁজ!

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

বড়বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি -কপোতাক্ষ

যশোরে একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা বেড়েছে।

আজ (শনিবার) শহরের বড়বাজারের মানভেদে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গতকাল ছিল ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা।

টানা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়া এবং বাজারে দেশি ঝালের ঘাটতিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে এখন কাঁচামরিচের ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানান, বাজারে এখন দেশি কাঁচামরিচের তীব্র ঘাটতি। তিনি বলেন, শনিবার পাইকারিতেই মানভেদে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পূর্বে মজুদকৃত মরিচের দাম কিছুটা কম। যদি দ্রুত আমদানি (এলসি) না আসে, তবে দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াও অসম্ভব না।

আরেক ব্যবসায়ী দিপু বিশ্বাস বলেন, যশোরের বাজার পুরোপুরি আমদানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচের খেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাজার করতে আসা নাসরিন বেগম বলেন, একদিনের মধ্যে দাম কিভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়? ৪০০ টাকা দিয়ে কাঁচামরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব। বাজার মনিটরিং বলে কি কিছু নেই? এখন তো মরিচ ছাড়া রান্না করতে হবে।

এবিষয়ে বাজার তদারকি কমিটির সদস্য ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, শনিবার সকাল থেকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সাধারণ বর্ষা মৌসুমে মরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুদ করে দাম বৃদ্ধি করছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এবছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন মরিচ বাজারে আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তখন মরিচের দাম আবার ৫ থেকে ১০ টাকা কেজিতে নেমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

একদিনে দেড়শ টাকা বেড়ে ৪৫০ টাকা কেজি

যশোরে কাঁচামরিচের সেই ঝাঁজ!

আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

যশোরে একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা বেড়েছে।

আজ (শনিবার) শহরের বড়বাজারের মানভেদে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গতকাল ছিল ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা।

টানা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়া এবং বাজারে দেশি ঝালের ঘাটতিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে এখন কাঁচামরিচের ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানান, বাজারে এখন দেশি কাঁচামরিচের তীব্র ঘাটতি। তিনি বলেন, শনিবার পাইকারিতেই মানভেদে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পূর্বে মজুদকৃত মরিচের দাম কিছুটা কম। যদি দ্রুত আমদানি (এলসি) না আসে, তবে দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াও অসম্ভব না।

আরেক ব্যবসায়ী দিপু বিশ্বাস বলেন, যশোরের বাজার পুরোপুরি আমদানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচের খেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাজার করতে আসা নাসরিন বেগম বলেন, একদিনের মধ্যে দাম কিভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়? ৪০০ টাকা দিয়ে কাঁচামরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব। বাজার মনিটরিং বলে কি কিছু নেই? এখন তো মরিচ ছাড়া রান্না করতে হবে।

এবিষয়ে বাজার তদারকি কমিটির সদস্য ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, শনিবার সকাল থেকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সাধারণ বর্ষা মৌসুমে মরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুদ করে দাম বৃদ্ধি করছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এবছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন মরিচ বাজারে আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তখন মরিচের দাম আবার ৫ থেকে ১০ টাকা কেজিতে নেমে আসবে।