ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

‘জাল দলিলে’ তিন কোটি টাকায় জমি বিক্রি!

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জাল দলিলের মাধ্যমে এই জমি বিক্রির অভিযোগ -কপোতাক্ষ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘জাল দলিলের মাধ্যমে’ যশোর শহরের তিন কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ঐ জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড অপসারণের চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

জমির মালিক ফজলে রাব্বীর অভিযোগ, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারক মোশরফ হোসেন জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।’

যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার মৃত মো. ফজলে আকবরের ছেলে ফজলে রাব্বী জানান, যশোর কোতোয়ালি থানার ৯২ ঘোপ মৌজায় এস.এ. ৫০৩ আর.এস ৫২৩ খতিয়ানের আর.এস. ১৭৭০ দাগে তাদের ২৮.৬৯ শত জমি রয়েছে। একসময় মোশরফ হোসেন তাদের জমি ও স্থাপনার কেয়ারটেকার ছিলেন। ঐ সময় ৬ শতক জমি জাল-জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল তৈরি করেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান রয়েছে। এজন্য জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাসম্বলিত সাইনবোর্ডও টানানো রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে মোশরফ হোসেন ঐ জমি বিক্রির জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বায়না গ্রহণ করেন। কিন্তু মামলার বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রি অফিস অবহিত থাকায় জমি রেজিস্ট্রি করতে পারেননি। ফলে তিনি বায়না ফেরত দিতেও বাধ্য হন।

ফজলে রাব্বী আরও অভিযোগ করেন, গত বছর মোশরফ হোসেন উপশহর এলাকার বাসিন্দা ফজলিয়ারা জাহান নামে এক নারীর কাছে জমিটি বায়না করেছিলেন। কিন্তু তখন রেজিস্ট্রি করতে না পেরে বায়না ফেরত নিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৪ আগস্ট’২৫ মোশরফ হোসেন খুব গোপনে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঐ জমি ফজলিয়ারা জাহান নামে সেই নারীর কাছে তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। অথচ ঐ জমি নিয়ে এখনও মামলা চলমান এবং জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাসম্বলিত সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে।

ফজলে রাব্বী জানান, সম্প্রতি ঐ জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড অপসারণের চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন জাল দলিল ব্যবহার করে ছয় শতক জমি মোশরফ হোসেন তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। গত ৪ আগস্ট জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। দলিল নং-১০৫৬৩/২৫। তিনি দলিলের নকলও তুলেছেন। প্রভাবশালী এক কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তিনি জমি রেজিস্ট্রি করতে সক্ষম হন দাবি করে ফজলে রাব্বী বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এই মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে দু’টি এনআইডি কার্ড তৈরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি কারাগারেও গিয়েছেন। এনিয়ে একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মোশরফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। দলিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘কে কিভাবে দলিল করেছে জানি না। আপনাদের ইচ্ছে হলে লিখে দেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

‘জাল দলিলে’ তিন কোটি টাকায় জমি বিক্রি!

আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘জাল দলিলের মাধ্যমে’ যশোর শহরের তিন কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ঐ জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড অপসারণের চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

জমির মালিক ফজলে রাব্বীর অভিযোগ, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারক মোশরফ হোসেন জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।’

যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার মৃত মো. ফজলে আকবরের ছেলে ফজলে রাব্বী জানান, যশোর কোতোয়ালি থানার ৯২ ঘোপ মৌজায় এস.এ. ৫০৩ আর.এস ৫২৩ খতিয়ানের আর.এস. ১৭৭০ দাগে তাদের ২৮.৬৯ শত জমি রয়েছে। একসময় মোশরফ হোসেন তাদের জমি ও স্থাপনার কেয়ারটেকার ছিলেন। ঐ সময় ৬ শতক জমি জাল-জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল তৈরি করেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান রয়েছে। এজন্য জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাসম্বলিত সাইনবোর্ডও টানানো রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে মোশরফ হোসেন ঐ জমি বিক্রির জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বায়না গ্রহণ করেন। কিন্তু মামলার বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রি অফিস অবহিত থাকায় জমি রেজিস্ট্রি করতে পারেননি। ফলে তিনি বায়না ফেরত দিতেও বাধ্য হন।

ফজলে রাব্বী আরও অভিযোগ করেন, গত বছর মোশরফ হোসেন উপশহর এলাকার বাসিন্দা ফজলিয়ারা জাহান নামে এক নারীর কাছে জমিটি বায়না করেছিলেন। কিন্তু তখন রেজিস্ট্রি করতে না পেরে বায়না ফেরত নিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৪ আগস্ট’২৫ মোশরফ হোসেন খুব গোপনে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঐ জমি ফজলিয়ারা জাহান নামে সেই নারীর কাছে তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। অথচ ঐ জমি নিয়ে এখনও মামলা চলমান এবং জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাসম্বলিত সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে।

ফজলে রাব্বী জানান, সম্প্রতি ঐ জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড অপসারণের চেষ্টা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন জাল দলিল ব্যবহার করে ছয় শতক জমি মোশরফ হোসেন তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। গত ৪ আগস্ট জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। দলিল নং-১০৫৬৩/২৫। তিনি দলিলের নকলও তুলেছেন। প্রভাবশালী এক কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তিনি জমি রেজিস্ট্রি করতে সক্ষম হন দাবি করে ফজলে রাব্বী বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এই মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে দু’টি এনআইডি কার্ড তৈরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি কারাগারেও গিয়েছেন। এনিয়ে একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মোশরফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। দলিলের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘কে কিভাবে দলিল করেছে জানি না। আপনাদের ইচ্ছে হলে লিখে দেন।’