ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই স্বামীর টানাটানি-হাতাহাতি, তিনজনই কারাগারে

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

সীমা অধিকারীর দুই স্বামী থানা চত্বরেও বিবাদে জড়ান -কপোতাক্ষ

এক নারীকে চল্লিশোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী দাবি করছেন। ঐ নারীকে নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে স্বামী দাবিদার দুই পুরুষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে। দুজনের টানাটানি ও হাতাহাতি দেখতে যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ে উৎসুক মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তিন জনকেই থানায় নিয়ে যায়। থানা চত্বরেও তারা কয়েক দফা নিজেদের মধ্যে শুরু করেন টানাটানি হাতাহাতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঐ তিনজনকেই ১৫১ ধারায় (নিরাপদ হেফাজত) মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঐ তিন ব্যক্তি হলেন : ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার বিকাশ অধিকারী, ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডু ও একই এলাকার সীমা অধিকারী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারীর সঙ্গে সীমা অধিকারীর প্রায় ৩৬ বছরের সংসার। এই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। কিন্তু সেই সাজানো সংসার ছেড়ে সীমা অধিকারী সম্প্রতি ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, বিকাশ অধিকারীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে পলাশের হাত ধরে তিনি ভারতে চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়েও করেন।

সোমবার রাতে তারা যশোরে এসে একটি হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিকাশের সন্দেহ হয় এবং তিনি সেই হোটেলে যান। এরপরই ত্রিমুখী এই ঝামেলা গড়ায় থানা পর্যন্ত।

এসময় দ্বিতীয় স্বামী পলাশ কুন্ডু জানান, সীমার সঙ্গে তার তিন বছরের সম্পর্ক। তারা দুজনেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসাথে থাকতে চান। কিন্তু তাদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিকাশ।

স্ত্রী সীমা অধিকারী বলেন, বিকাশের সংসারে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বাধ্য হয়ে বিকাশকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না।

প্রথম স্বামী বিকাশ অধিকারী দাবি করেন, সীমার পরকীয়ায় কারণে তাদের সাজানো সংসার ভেঙে যাচ্ছে। সীমা শুধু বাড়ি ছাড়েননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও গয়নাও নিয়ে গেছেন। তিনি সীমাকে যেকোনো মূল্যে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় দীর্ঘক্ষণ তাদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। পরে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।

যশোর আদালতের কোর্ট পরিদর্শক রোকসানা খাতুন বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শান্তনু কুমার মন্ডল তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই স্বামীর টানাটানি-হাতাহাতি, তিনজনই কারাগারে

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এক নারীকে চল্লিশোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী দাবি করছেন। ঐ নারীকে নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে স্বামী দাবিদার দুই পুরুষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে। দুজনের টানাটানি ও হাতাহাতি দেখতে যশোর শহরের চারখাম্বার মোড়ে উৎসুক মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তিন জনকেই থানায় নিয়ে যায়। থানা চত্বরেও তারা কয়েক দফা নিজেদের মধ্যে শুরু করেন টানাটানি হাতাহাতি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঐ তিনজনকেই ১৫১ ধারায় (নিরাপদ হেফাজত) মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঐ তিন ব্যক্তি হলেন : ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার বিকাশ অধিকারী, ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডু ও একই এলাকার সীমা অধিকারী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের কানাইপুরের বাসিন্দা বিকাশ অধিকারীর সঙ্গে সীমা অধিকারীর প্রায় ৩৬ বছরের সংসার। এই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। কিন্তু সেই সাজানো সংসার ছেড়ে সীমা অধিকারী সম্প্রতি ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, বিকাশ অধিকারীর ঘর ছেড়ে পালিয়ে পলাশের হাত ধরে তিনি ভারতে চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়েও করেন।

সোমবার রাতে তারা যশোরে এসে একটি হোটেলে ওঠেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিকাশের সন্দেহ হয় এবং তিনি সেই হোটেলে যান। এরপরই ত্রিমুখী এই ঝামেলা গড়ায় থানা পর্যন্ত।

এসময় দ্বিতীয় স্বামী পলাশ কুন্ডু জানান, সীমার সঙ্গে তার তিন বছরের সম্পর্ক। তারা দুজনেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং এখন একসাথে থাকতে চান। কিন্তু তাদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিকাশ।

স্ত্রী সীমা অধিকারী বলেন, বিকাশের সংসারে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন। সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি বাধ্য হয়ে বিকাশকে ছেড়ে পলাশকে বিয়ে করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর বিকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না।

প্রথম স্বামী বিকাশ অধিকারী দাবি করেন, সীমার পরকীয়ায় কারণে তাদের সাজানো সংসার ভেঙে যাচ্ছে। সীমা শুধু বাড়ি ছাড়েননি, বরং পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও গয়নাও নিয়ে গেছেন। তিনি সীমাকে যেকোনো মূল্যে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চান।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় দীর্ঘক্ষণ তাদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। পরে ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।

যশোর আদালতের কোর্ট পরিদর্শক রোকসানা খাতুন বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক শান্তনু কুমার মন্ডল তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।